ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে? (MRP + E-Pasport)

বিদেশ ভ্রমণ বা বিভিন্ন প্রয়োজনে আমাদেরকে পাসপোর্ট করতে হয়। নতুন পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে বা যে সমস্ত ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয়, তা অনেকেরই অজানা। যে কারণে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে যেয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণ করার জন্যে কিছু নির্দিষ্ট কাগজপত্র ও অর্থ প্রদানের নিয়ম রয়েছে। যা পাসপোর্ট অফিস কর্তৃক পূর্ব থেকেই নির্ধারিত।

এম আর পি পাসপোর্ট ও ই-পাসপোর্ট করার মধ্যে কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। আবার অপ্রাপ্ত বয়স্কদের পাসপোর্ট করার নিয়মেও কিছু পার্থক্য রয়েছে।

আজ আমি আপনাকে বলব, এম আর পি পাসপোর্ট ও ই পাসপোর্ট করতে কি কি কাগজপত্র লাগে এবং শিশুদের পাসপোর্ট করার জন্যে রিকোয়ারমেন্ট ডকুমেন্ট গুলো কি কি।

পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে?

পাসপোর্ট এর নাম শুনলেই এম আর পি (MRP) পাসপোর্ট এর কথা প্রথমেই চলে আসে। বাংলাদেশে এটি ৯৭৩ সালে প্রথম চালু হয়।

মেশিন রিডেবল এম আর পি পাসপোর্ট মূলত পুরানো নিয়ম। যা করতে আপনাকে সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে।

তারপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দিয়ে একটি ফরম পূরণ করে নির্দিষ্ট কিছু ফি জমা দিতে হবে।

এমআরপি পাসপোর্ট করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফরম পূরণের নিয়মাবলীঃ-

, পাসপোর্ট আবেদন ফরম। এই ফরমটি সরাসরি পাসপোর্ট অফিস থেকেও নিতে পারবেন, অথবা অনলাইন থেকে ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিনঃ MRP Application Form (Hard Copy)।

২, এমআরপি পাসপোর্টের আবেদন ফরমে স্টার (*) দ্বারা চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে।

৩, আবেদন ফরমের চতুর্থ পৃষ্ঠাকে একজন সরকারি কর্মকর্তার মাধ্যমে সত্যায়িত করতে হবে।

৪, সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ২কপি রঙিন ছবি ফরমের উপর আঠা দিয়ে লাগাতে হবে।

তবে আবেদনকারীর বয়স যদি ৫ বছরের কম হয়, তবে তার মা-বাবার স্ট্যাম্প সাইজের ২কপি রঙিন ছবি ফরমের উপর আঠা দিয়ে লাগাতে হবে। তারপর ছবিগুলো সত্যায়িত করতে হবে।

৫, জাতীয় পরিচয়পত্র / জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি (২কপি অবশ্যই সত্যায়িত হতে হবে)। আবেদনকারীর বয়স ২০ বছরের উর্ধে হলে জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID) আবশ্যকীয়।

তবে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন হতে আবেদন করার ক্ষেত্রে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC English Version) দিয়েও করা যাবে।

৬, কর্মজীবিদের ক্ষেত্রে তার পেশাগত সনদপত্রের কপি জমা দিতে হবে।

৭, প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল সনদসমূহ যেমন, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার ইত্যাদির কাগজপত্র সংযোজন করতে হবে।

৮, দাপ্তরিক পাসপোর্ট বা নীল পাসপোর্টটি করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসের অনুমোদন (জিও) প্রয়োজন হবে।

৯, বিবাহ সনদ বা কবিননামা অথবা বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তালাকনামার কাগজপত্র দাখিল করতে হবে।

০, জরুরী ভিত্তিতে পাসপোর্টের আবেদন করার ক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ সংগ্রহ করে আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে।

ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে?

ই-পাসপোর্ট (E-passport) হলো আধুনিক ও ডিজিটাল। ই-পাসপোর্ট বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয়। কারণ, এর ফিচার সমৃদ্ধি ও সহজলভ্যতা।

ই-পাসপোর্ট করার জন্যে কোনো কাগজপত্র বা ছবিকে সত্যায়িত করার কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না।

ই পাসপোর্টের সুবিধা হলো অল্প সময়ের মধ্যেই আপনি ঘরে বসেই অনলাইনে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ই পাসপোর্ট করতে কি কি কাগজপত্র লাগে এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলোঃ-

, জাতীয় পরিচয়পত্র বা ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ

২, অপ্রাপ্ত বয়স্ক (৮ বছরের কম) যার ভোটার আইডি কার্ড নাই, এক্ষেত্রে তার মা-বাবার ভোটার আইডি কার্ডের নম্বর।

৩, টেকনিক্যাল বা কারিগরি সনদসমূহ যেমন, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার ইত্যাদি সনদের কাগজপত্র আপলোড করতে হবে।

৪, ব্যাংকে ই পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার রশিদ।

৫, পেশগত সনদ প্রয়োজন হবে। বেসরকারি চাকরিজীবি হলে এনওসি (NOC) এবং সরকারি চাকরিজীবি হলে জিও (GO) এর কপি আপলোড করতে হবে।

সরকারি চাকরিজীবিদের মধ্যে যারা অবসরপ্রাপ্ত, তাদের পেনশন বইয়ের ফটোকপি আপলোড হবে। আর যারা বেকার, তাদের পেশগত কোনো কাগজপত্রের প্রয়োজন নেই।

৬, শিক্ষার্থী হলে স্টুডেন্ট আইডি কার্ড অথবা সার্টিফিকেটের ফটোকপি।

৭, আগে থেকেই যদি আপনার কোনো পাসপোর্ট থাকে, তবে সেই পাসপোর্টের ফটোকপি প্রয়োজন হবে। হাতে লেখা অথবা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

৯, আবেদনকারী বিবাহিত হলে বিবাহ সনদ/ কবিননামা অথবা বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তালাকনামার কাগজপত্র।

০, কারো পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে অথবা চুরি হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় জিডি করতে হবে। তারপর পুনরায় ই পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে পুরাতন পাসপোর্টের ফটোকপি এবং থানার জিডি কপিসহ আবেদনপত্র দাখিল করতে হবে ।

ই-পাসপোর্টের জন্য আপবেদন আপনি নিজেই করতে পারবেন। তবে আবেদন করার পর সেই আবেদন ফরম ডাউনলোড করে আপনাকে প্রিন্ট করে নিতে হবে।

তারপর সেই আবেদন ফমটি আপনার নিকটস্ত পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হবে। ফরম দেওয়ার সময় উপরোল্লিখিত কাগজপত্র গুলোর ফটোকপি আপনাদের সাথে রাখবেন অবশ্যই।

তারপর তারা আপনার দুই হাতের ০ আঙ্গুলের ছাপ নিবে, দু’চোখের আইরিশ নেবে এবং ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলবে। ই পাসপোর্ট করার নিয়ম মূলত এভাবেই।

ছোট বাচ্চাদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে?

অনেক সময় শিশু বা অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্যও পাসপোর্ট করার প্রয়োজন হয়। অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা শিশুদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট করার নিয়মে একটু ভিন্নতা দেখা যায়।

ছোট বাচ্চাদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে তা নিচে তুলে ধরা হলোঃ-

০৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে

, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন (BRC English Version) ফটোকপি।

২, আবদেনকারীর মা-বাবার ন্যাশানাল আইডি কার্ডের (NID) ফটোকপি।

৩, আবেদনকারীর 3R Size সাইজের ল্যাব প্রিন্ট গ্রে ব্যাকগ্রাউন্ড বিশিষ্ট ছবি জমা দিতে হবে।

৭ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে

, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন (BRC English Version) ফটোকপি। যাদের ভোটার আইডি কার্ড হয়েছে তারা আইডি কার্ডের ফটোকপি জমা দেবেন

২, শিক্ষার্থী হলে প্রাতিষ্ঠানিক আইডি কার্ড অথবা সার্টিফিকেট এর ফটোকপি। আর শিক্ষার্থী নাহলে এই ডকুমেন্টের প্রয়োজন নেই।

৩, অপ্রাপ্ত বয়স্ক (৮ বছরের কম) যাদের এনআইডি কার্ড হয়নি, তাদের মা-বাবার আইডি কার্ডের (NID) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করে দিতে হবে।

১৮ থেকে ২০ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে

১, জাতীয় পরিচয়পত্র বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের (BRC English Version) ফটোকপি।

২, শিক্ষার্থী হলে সার্টিফিকেটের ফটোকপি জমা দেবেন।  আর শিক্ষার্থী নাহলে এই ডকুমেন্টের প্রয়োজন নেই।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথাঃ

প্রিয় পাঠক, এম আর পি এবং ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে তা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি। আপনি যদি নতুন পাসপোর্ট করতে চান তবে আশাকরি আর্টিকেলটি আপনার খুবই কাজে আসবে।

পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে অবশ্যই দালালের আগ্রাসন থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করবেন। আপনার পাসপোর্ট আপনি নিজেই করার চেষ্টা করুন। এতে বিভিন্ন সমস্যা এড়ানো যাবে।

যাইহোক, পাসপোর্ট বিষয়ে আপনি যদি আরও কিছু জানতে চান, তবে অবশ্যই কমেন্ট করুন। যথাসাধ্য আপনাদের সহযোগিতা করবো ইনশাআল্লাহ। সবাইকে ধন্যবাদ।

Add comment

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.