গ্রাফিক্স ডিজাইন ক্যারিয়ার

গ্রাফিক্স ডিজাইন ক্যারিয়ার সম্ভাবনা ২০২২

যারা গ্রাফিক্স ডিজাইনে কাজ ইচ্ছুক তাদেরকে গ্রাফিক্স ডিজাইন ক্যারিয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত। গ্রাফিক্স ডিজাইন এমন একটি বিষয়, যেটা আমাদের প্রত্যেকের জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে মিশে আছে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনকে জাতীয় পেশা হিসেবে আখ্যা দেওয়া যায়। আপনার আশে-পাশের প্রায় মানুষকে দেখবেন যে, তারা Graphics design নিয়ে কাজ করে।

একটি সময় ছিল এলাকার নির্দিষ্ট কিছু লোক ছাড়া কেহই গ্রাফিক্স ডিজাইন কি তা জানতই না। কিন্তু প্রযুক্তির কল্যাণে এখন গ্রাফিক্স ডিজাইনের ব্যবহার প্রায় প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন কাজের সাথে মিশে আছে।

এই প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছে গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর বিশাল এক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। গ্রাফিক্স ডিজাইন সারাবিশ্বে এতটাই জনপ্রিয় যে, লক্ষ লক্ষ মানুষ গ্রাফিক্স সেক্টরে কাজ করে নিজেদের ক্যারিয়ার ডেভেলপ করছে।

এটা নতুন প্রজন্মের জন্য একটি আশীর্বাদ বলা যায়। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ এখন Graphics Design এর কাজে আগ্রহী হচ্ছে। কেননা, গ্রাফিক্স ডিজাইন খুবই সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার গঠনের অপর্চুনিটি দেয়।

গ্রাফিক্স ডিজাইন ক্যারিয়ার সম্ভাবনা

Graphics Design পেশার সাথে বিশ্বের অগণিত মানুষ জরিত। ইভেন আমিও পেশাগত ভাবে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার। দীর্ঘ ৭ বছরের বেশী সময় ধরে এই পেশায় আমি কাজ করি।

সকলেই জানেন, বর্তমান পৃথীবিতে প্রায় সকল ব্যবসা-বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড এখন ইন্টারনেট কেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। কারণ গতানুগতিক বাণিজ্যের চেয়ে ডিজিটাল বাণিজ্য অনেক বেশী লাভজনক।

আর এসব ব্যবসা-বাণিজ্যের ডিজিটাল প্রচারণার জন্য যে কাজটির সবচেয়ে বেশী শরণাপন্ন হতে হয়, তার নামই হলো গ্রাফিক্স ডিজাইন।

শুধু ইন্টারনেট কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, ট্রেডিশনাল মার্কেটিং বা কোন কিছুর প্রচারের জন্যও গ্রাফিক্স ডিজাইনের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

বাজারে, রাস্তার মোড়ে যত বিলবোর্ড বা পোস্টার দেখেন অথবা পণ্যের প্যাকেট তৈরিতে যত কারুকাজ দেখেন সবই গ্রাফিক্স ডিজাইনের অন্তরভূক্ত।

আপনার শরীরে যে জামা-কাপড় গুলো পড়েন সেগুলো তৈরিতেও গ্রাফিক্স ডিজাইনের ব্যবহার রয়েছে।

দিন যত পার হচ্ছে গ্রাফিক্স ডিজাইনের চাহিদা ততই বাড়ছে।

বিষয়টা এমন যে, গ্রাফিক্স ডিজাইন ছাড়া বর্তমানে কোন কিছুর কথা ভাবাই য়ায় না।

অনলাইন এবং অফলাইন উভয় জগতে গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

তবে সেই তুলনায় এখনো দক্ষ ডিজাইনার নেই বললেই চলে।

আমাদের আশে-পাশে যারা গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে কাজ করে সবাই কিন্তু দক্ষ নয়। হয়ত তারা গ্রাফিক্স এর কাজ করে।

অনেক মানুষ আছে যারা গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করে, তবে গ্রাফিক্স ডিজাইন ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারে না।

এর কারণ হলো, তাদের মধ্যে দক্ষতার অভাব রয়েছে। তাছাড়া, সঠিক গাইড ফলো না করার কারণেও এমন হয়।

আমি গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর প্রায় ৮ বছর ধরে কাজ করি। তবে এখনো নিজেকে শতভাগ পার্ফেক্ট মনে করতে পারি না।

আমি সাধারণত গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর ফ্রিল্যান্সিং করি।

ফ্রিল্যান্সিং করতে গিয়ে আমি মোটামুটি দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। অনেক কিছুই জানা হয়েছে। তবে সব জানি তা বলবো না।

আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে চান তবে শুরুতেই আপনাকে টার্গেট নিয়ে কাজ শিখতে হবে।

অর্থাৎ, আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে ফ্রিল্যান্সিং করবেন নাকি গতানুগতিক কোন প্রেসে বা দোকানে চাকরি করবেন?

শুরুতেই এমন টার্গেট রাখা উচিত।

এটা এজন্যই যে, ফ্রিল্যান্সিং এবং গতানুগতিক প্রেসে বা দোকানের চাকরির মধ্যে বেশকিছু ব্যবধান রয়েছে।

তবে একথা সত্য যে, গ্রাফিক্স ডিজাইন ক্যারিয়ার অনলাইন-অফলাইন উভয় জগতের জন্যই বেশ সম্ভাবনাময় বলা যায়।

ফ্রিল্যান্সিং এ গ্রাফিক্স ডিজাইন

ফ্রিল্যান্সিং করতে গিয়ে অনলাইন ভিত্তিক যত কাজ আছে, সেগুলোর মধ্যে চাহিদার দিক দিয়ে গ্রাফিক্স ডিজাইন নাম্বার ওয়ান অবস্থানে রয়েছে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং ইন্ডিয়া প্রথম স্থানে রয়েছে।

মজার ব্যপার হলো ফ্রিল্যান্সিং জগতের বিশাল একটি অংশজুড়ে গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করা হয়।

যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাত-দিন কাজ করছে।

আপনার মনে হতে পারে এই যে এতলোক কাজ করছে, আমি কি তাদের সাথে ফ্রিল্যান্সিংয়ে পেরে উঠতে পারবো?

উত্তর অবশ্যই হ্যাঁ।

ইতোমধ্যেই বলেছি কাজের তুলনায় দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনের অনেক ঘাটতি রয়েছে। তা হতে পারে অনলাইন বা অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই।

আপনি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে যাদেরকে সেলার বা সার্ভিস প্রোভাইডার দেখতে পান তাদের অধিকাংশই নতুন।

যাদের প্রোফাইলে ৫০+ রিভিউ আছে তাদেরকে একবারে নতুন বলার সুযোগ নেই। তবে তাদের সবাই যে প্রো লেভেলেও ডিজাইনার তাও কিন্তু নয়।

ফ্রিল্যান্সিং এ গ্রাফিক্স ডিজাইনের এতবেশী চাহিদা যে, আপনি যদি মার্কেটপ্লেস গুলোর রুলস মেনে দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারেন তবে অল্প দিনেই ৫০+ রিভিউ আপনার প্রোফাইলে নিয়ে আসতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করে ৫০+ প্রোফাইল রিভিউ মানেই মোটামুটি লেভেলের সফলতা বলাই যায়।

কেননা, অধিকাংশ বায়াররা কিন্তু কাজ শেষে রিভিউ দেয় না। ৫০+ প্রোফাইল রিভিউ পেতে অন্তত ৩০০+ কাজ করতে হয়।

আর ৩০০ কাজ করা মানে অনেক বড় একটি এমাউন্ট আপনার হাতে চলে আসা।

ফ্রিল্যান্সিং যেহেতু সম্পূর্ণ মুক্ত পেশা,  সেহেতু এখানে আপনাকে রাত দিন লেগে থাকার প্রয়োজন নেই।

পার্ট টাইম জব হিসেবেও ফ্রিল্যান্সিংকে নিতে পারবেন।

তবে আপনি যখন দেখবেন যে, ফিল্যান্সিং করে গ্রাফিক্স ডিজাইন ক্যারিয়ারকে মোটামুটি একটি ভালো পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তখন ফ্রিল্যান্সিংকে ফুল টাইম জব হিসেবেও নিতে পারবেন।

অফলাইনে গ্রাফিক্স ডিজাইন

মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যেহেতু গ্রাফিক্স ডিজাইন কাজে লাগে। সেহেতু এর চাহিদা অনলাইন-অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই রয়েছে।

আমি সাধারণত অফলাইনে কাজ করি না। তবে আমার এক বন্ধু গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর অফলাইনে একটি কোম্পানির প্রেসে কাজ করে।

তাছাড়া, আমার পরিচিত অনেকেই অফলাইনে বিভিন্ন প্রেসে বা দোকানে কাজ করে।

আমি তাদের থেকে যেই ধারণাটি পাই, তা হলো তারা গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করে বেশ হ্যাপী ক্যারিয়ার গঠন করেছে।

ইভেন আমার বন্ধুও অফলাইনে গ্রাফিক্স ডিজাইন ক্যারিয়ারে নিজেকে সুখী মনে করে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন করে কত টাকা আয় করা যায়?

যে কোন বিষয়ের উপর ক্যারিয়ার গঠনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করার আগে সেই কাজের বেনিফিট কি তা জেনে রাখা উচিত।

একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের বেতন কত হয়, তা দিয়ে কি ডিজাইনারের ক্যারিয়ার বিল্ড করা সম্ভব এই প্রশ্নটি অনেকেই করেন।

গ্রাফিক্স ডিজাইনে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য লক্ষ্য নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, আপনি কি অনলাইন থেকে আয় করতে চাচ্ছেন নাকি গতানুগতিক ভাবে কোন কোম্পানিতে চাকরি করবেন?

আপনার লক্ষ্য যদি হয় গ্রাফিক্স ডিজাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করবেন, তবে আপনি সফল ভাবে কাজ করতে পারলে প্রতি মাসে লক্ষ টাকার বেশী আয় করতে পারবেন।

আমাদের বাংলাদেশেই এমন হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সার আছে, যারা গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর কাজ করে মাসে লক্ষ টাকা ঘরে বসেই অনলাইন থেকে আয় করছেন।

আবার আপনার চিন্তা যদি অনলাইন না হয়ে অফলাইন হয়, তবুও আপনার জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইনে চমৎকার ক্যারিয়ার বিল্ড করার সুযোগ রয়েছে।

আমার বন্ধু একটি কোম্পানির প্রেসে ডিজাইনার হিসেবে কাজ করে, তার মাসিক সেলারি৮ হাজার।

আমার এলাকার পরিচিত এমনও গ্রাফিক্স ডিজাইনার আছেন, যার মাসিক সেলারি ৬০ হাজার + ।

আমি ব্যক্তিগত ভাবে জানি তাদের গ্রাফিক্স ডিজাইন ক্যারিয়ার বেশ সুখময়।

অবশ্যই মনে রাখবেন, তাদের মূল সেলারি ছাড়াও ডিজাইন বাবদ আরো অতিরিক্ত টাকা তারা আয় করতে পারে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর কাজ করে মাসে ২০-৩০ হাজার টাকা আয় করার জন্য খুব বেশী দক্ষ হতে হবে বিষয়টা এমন নয়। তবে দক্ষতার কোন জুরি নেই।

যে কোন কাজে দক্ষতার পরিচয় দিতে পারলে টাকার অভাব হবে না।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথাঃ

আমাদের একটি জাতীয় অভ্যাস হলো স্কিল ডেভেলপ না করেই কাজে লেগে যেতে চাই। এটা আসলে উচিত না।

আপনি অনলাইন বা অফলাইন যেখানেই কাজ করেন না কেন, আপনার অবশ্যই স্কিল এর প্রয়োজন হবে।

মনে রাখবেন, যাদের সময়োপযোগী স্কিল আছে তারা কেহই বসে নেই। কোনোনা কোন ভাবে তারা অর্থ উপার্জন করছেই।

গ্রাফিক্স ডিজাইন যদি আপনার কাছে ভালো লাগে তাহলে এটি নির্দ্বীধায় শিখতে পারেন। কারণ, গ্রাফিক্স ডিজাইন এর ভবিষ্যৎ যথেষ্ট সম্ভাবনাময়।

গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে কতদিন লাগবে তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না। তবে আপনার চেষ্টা ও পরিশ্রমের উপর শেখার সময়টা নির্ণয় করবে।

আবার Graphics Design এর উপর কাজ করে আপনি কতদিনে সফল হবেন তাও আপনার চেষ্টা ও পরিশ্রমের উপর নির্ণয় করবে।

আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইন ক্যারিয়ার গড়তেই চান, তবে এখনই এর উপযুক্ত সময়।

সময় নষ্ট না করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে আজ থেকেই কাজ শেখা শুরু করে দিন। ইনশাআল্লাহ আপনিও সফল হবেন।

Add comment

Posts

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.