কম্পিউটার এক্সপার্ট হওয়ার উপায় -নতুনদের জন্য কম্পিউটার শিক্ষা

কম্পিউটারে এক্সপার্ট হওয়ার উপায়

প্রযুক্তির এই যুগে কম্পিউটার এক্সপার্টদের মান আকাশচুম্বী। আপনি যদি কম্পিউটারে অভিজ্ঞ হতে চান, তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যই।

কম্পিউটার হলো বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার বা সফলতা। যুগ যুগ ধরেই কম্পিউটারের ব্যবহার চলে আসছে।

বর্তমান সময়ে মানুষ কম্পিউটারের দিকে এমন ভাবেই ঝুঁকে পড়েছে, যার জন্য এই সময়টাকে কম্পিউটারের যুগ বলা হয়।

দিন যত পার হচ্ছে কম্পিউটারে অভিজ্ঞ (Computer Expert) এমন লোকদের ডিমান্ড ততই বাড়ছে।

এজন্যই প্রতিটি দেশে সরকারি-বেসরকারি ভাবে সাধারণ জনগণকে কম্পিউটার শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

আমাদের সামনে এমন একটা সময় আসতে যাচ্ছে, যখন কম্পিউটার শিক্ষা ছাড়া কোনো প্রকার চাকরি করা যাবে না।

উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে এখনই এই অবস্থা অবলোকন করা যায়। এজন্যই নতুনদের জন্য কম্পিউটার শিক্ষার গুরুত্বটা অনেক বেশী।

আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু বিষয় শেয়ার করবো, যা ফলো করার মাধ্যমে আপনিও একজন প্রফেশনাল মানের Computer Expert হতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

কম্পিউটার এক্সপার্ট বলতে আমরা কি বুঝি?

সকলেই জানি, প্রত্যেকটা বিষয়ের উপরই অভিজ্ঞ লোক আছে। কম্পিউটারের ক্ষেত্রেও তাই।

Computer Expert বলতে আমরা “কম্পিউটারে অভিজ্ঞ” লোকদেরকেই মনে করি।

অর্থাৎ, যারা অল্প সময়ে কম্পিউটারের সাহায্যে বিভিন্ন কাজ করতে পারে।

যেমনঃ দ্রুত টাইপিং করা, বিভিন্ন সফটওয়্যারের কাজ জানা, কাজে বিভিন্ন কৌশল এবং কিবোর্ড শর্টকার্ট ব্যবহার করা ইত্যাদি।

প্রকৃতপক্ষে এই বিষয় গুলোর উপর ভিত্তি করেই একজন কম্পিউটার এক্সপার্ট তৈরি হয়।

এজন্য আপনাকে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার সম্পর্কে সবকিছুই জানতে হবে, বিষয়টা এমন নয়।

তবে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার সম্পর্কে জানাটা আপনার অভিজ্ঞতাকে পূর্ণতা দেবে।

Computer Expert হওয়ার উপায় কি?

যে কোন বিষয়ের এক্সপার্ট হওয়ার আগে সেই বিষয় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা রাখা জরুরি।

কম্পিউটার শেখার জন্য প্রথমেই ভালো করে মাউজের ব্যবহার জানা সবার জন্যই আবশ্যক।

তারপর কিবোর্ড সম্পর্কেও জানতে হবে।

যে কিবোর্ড মাউজের ব্যবহার ভালো করে জানে, সে কম্পিউটার শিক্ষার প্রায় বেসিক জ্ঞান আয়ত্ব করে নিয়েছে।

কিবোর্ড মাউজের ভালো ব্যবহার জানার জন্য টাইপিং স্কিল অবশ্যই ভালো করতে হবে।

অর্থাৎ, দ্রুত টাইপ করা শিখতে হবে।

কেননা, দ্রুত টাইপিং ছাড়া কম্পিউটারে এক্সপার্ট হওয়া পসিবল নয়।

পাশাপাশি মাইক্রোসফটের কিবোর্ড শর্টকাট সম্পর্কে ভালো করে জানতে হবে।

প্রতিটি কিবোর্ড শর্টকাট মুখস্ত রাখা জরুরি।

কিবোর্ড শর্টকাট এমন একটি বিষয়, যা অনেক কঠিন কাজকেও সহজ করে তুলে।

সময়ের অপচয় কমাতে কিবোর্ড শর্টকাটের জ্ঞান আয়ত্ব করার বিকল্প নেই।

কম্পিউটার এক্সপার্টরা তাদের যে কোন কাজ সম্পাদন করার ক্ষেত্রে কিবোর্ড শর্টকাট ব্যবহার করে।

এটা যে কোন কাজকে দ্রুত শেষ করতে সহযোগিতা করে।

Computer Expert হতে বিভিন্ন সফটওয়্যারের ব্যবহার জানাটা কৌশলগত ভাবে অনেক ভালো।

বিশেষ করে মাইক্রোসফট ও এডোবির বিভিন্ন সফটওয়্যাবের ব্যবহার জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের দেশে এই ধরণের সফটওয়্যার খুব বেশী ব্যবহার করা হয়।

তাছাড়া আরো অনেক বেসিক সফটওয়্যার আছে, যেগুলোর ব্যবহার জানলে কম্পিউটারে দক্ষতা অর্জনে সহায়ক হবে।

কম্পিউটার শেখার সহজ পদ্ধতি

কম্পিউটার এক্সপার্ট হবেন যেভাবে | কম্পিউটার শেখার সহজ পদ্ধতি 2021
নতুনদের জন্য কম্পিউটার শিক্ষা | কম্পিউটার এক্সপার্ট হওয়ার উপায়

অনেকেই মনে করেন, কম্পিউটার শেখার জন্য কোন ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হওয়া আবশ্যক।

কিন্তু বর্তমান সময়ে এটা নিত্যান্তই একটি ভুল ধারণা হিসেবে প্রমাণিত।

অনেক মানুষ আছে যারা কোনদিন কম্পিউটার শেখার জন্য কোন ট্রেনিং সেন্টারে যাননি, অথচ তাদের কম্পিউটারে দক্ষতা দেখতে অবাক হতে হয়।

আপনি হয়ত জেনে থাকবেন, ইন্টারনেট আসার পর থেকে সকল শিক্ষা কার্যক্রম আস্তে আস্তে ইন্টারনেট ভিত্তিক হয়ে পড়ছে।

ইন্টারনেটে অগণিত আইটি প্রতিষ্ঠান আছে, যারা কম্পিউটার থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয় ফ্রিতেই শিক্ষা দিচ্ছে।

তারমেধ্যে আমাদের আইটি নির্মাণও একটি। যাইহোক, আপনি চাইলে ইন্টারনেটের সাহায্যে সম্পূর্ণ ফ্রিতেই কম্পিউটার শিখতে পারবেন।

ইন্টারনেটে বিভিন্ন কন্টেন্টের সাহায্যে নতুন স্টুডেন্টদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

অনেকেই আর্টিকেল ভিত্তিক কন্টেন্ট দিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়, আবার অনেকেই ভিডিও কন্টেন্ট এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়।

এই দুটো সিস্টেমই যথেষ্ট ইউজার ফ্রেল্ডলি।

চলুন জেনে নিই প্রশিক্ষাণের মাধ্যমে কিভাবে কম্পিউটার এক্সপার্ট হবেন।

আর্টিকেল ভিত্তিক প্রশিক্ষণ

আর্টিকেল ভিত্তিক প্রশিক্ষণ গুলো ৩ প্রকারের হয়।

() ইন্টারনেটের সাহায্যে কোন ওয়েবসাইট থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া।

(২) সরাসরি কোন লেখকের বই থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া।

(৩) কোন পিডিএফ ( PDF) বইয়ের সাহয্যে প্রশিক্ষণ নেওয়া।

এরমধ্যে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নেওয়া সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মনে করি।

কারণ, ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট প্রতিনিয়তই আপডেট হয়ে থাকে।

এখানে নতুন নতুন তথ্য যোগ হয়।

তাছাড়া, এটা সম্পূর্ণ ফ্রি।

আপনি চাইলে কোন ওয়েবসাইটের আর্টিকেল পড়ে পড়ে কম্পিউটার শিখতে পারেন।

অথবা, বাজার থেকে কোন লেখকের বই কিনেও শিখতে পারেন।

বই কেনার ক্ষেত্রে সবসময় চেষ্টা করবেন, যেই বইগুলোতে চিত্র সহকারে আর্টিকেলগুলো সাজানো সেই ধরণের বই কেনার জন্য।

তবে নতুন অবস্থায় আপনার বুঝতে অনেক সহজ হবে।

তাছাড়া, কম্পিউটার শিক্ষার pdf বই রয়েছে। পিডিএফ বইগুলো বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ফ্রিতেই পাওয়া যায়।

আবার অনেক পিডিএফ বই আছে, যেগুলো টাকা দিয়ে ক্রয় করতে হয়।

যাইহোক, আর্টিকেল ভিত্তিক প্রশিক্ষণ গুলোর মাঝে এই ৩ টি পদ্ধতি খুবই কার্যকর।

আপনার রুচি অনুযায়ী সিলেক্ট করতে পারেন।

ভিডিও ভিত্তিক প্রশিক্ষণ

কম্পিউটার এক্সপার্ট হওয়ার জন্য ভিডিও কন্টেন্ট এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নেওয়া অনেক সহজ।

ভিডিও কন্টেন্ট ভিত্তিক প্রশিক্ষণ গুলো ২ প্রকারের হয়।

() ইউটিউব ভিত্তিক প্রশিক্ষণ -যেগুলো সম্পূর্ণ ফ্রি।

(২) কোর্স ভিত্তিক প্রশিক্ষণ – ফ্রি এবং পেইড।

আপনারা সকলেই জানেন, ইউটিউটিউব একটি ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম।

এখানে সব ধরণের ভিডিও ফ্রিতেই পাওয়া যায়।

আপনি চাইলে ইউটিউব থেকে ফ্রিতেই কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন।

এটা খুবই জনপ্রিয় একটি শিক্ষা পদ্ধতি।

অথবা, ইন্টারনেটে অনেক ওয়েবসাইট আছে যারা কম্পিউটার শিক্ষার উপর কোর্স তৈরি করে রেখেছে।

এই কোর্স গুলো বেশির ভাগ পেইড কোর্স হয়। অর্থাৎ, টাকা দিয়ে কিনতে হয়।

পেইড কোর্স গুলো কম্পিউটার শিক্ষার জন্য সবচেয়ে বেটার। কেননা, পেইড কোর্স গুলোতে প্রশিক্ষণের একটি ধারাবাহিকতা থাকে।

এজন্য পেইড কোর্স দেখে কম্পিউটার এক্সপার্ট হওয়া বা কম্পিউটারে নিজের দক্ষতা বাড়ানো সবচেয়ে সহজ।

পেইড কোর্স ফ্রিতে পাওয়া দুঃসাধ্য ব্যাপার।

ভিডিও কন্টেন্ট ভিত্তিক প্রশিক্ষণ যদি ফ্রিতেই নিতে চান, তবে ইউটিউবকে বেছে নিন।

আর যদি বাজেট থাকে তবে পেইড কোর্স কিনতে পারেন।

শেষ কথাঃ

উপরোল্লেখিত কম্পিউটার শিক্ষার প্রশিক্ষণ পদ্ধতিগুলোর যে কোনটা ফলো করে আপনি খুব সহজেই কম্পিউটার শিখতে পারবেন।

তবে একথা সত্য যে, কেউ কখনই একদিনেই কোন বিষয়েই এক্সপার্ট হতে পারে না।

যে কোন বিষয়ে এক্সপার্ট হতে গেলে নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত পরিশ্রম করতে হয়, সাধনা করতে হয়।

কম্পিউটার শেখার পর নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই কম্পিউটার এক্সপার্ট হতে পারবেন।

তবে হ্যাঁ, সব বিষয়েই এক বা একাধিক গাইডলাইন আছে।

আর এই গাইডলাইন গুলোই নতুনদের জন্য কম্পিউটার শিক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহযোগী হিসেবে কাজ করে। আমিও এমন হাজারো গাইড ফলো করেই কম্পিউটার শিখেছিলাম।

আমার পার্সোনাল এক্সপেরিয়েন্স থেকে জাস্ট একটি গাইডলাইন দিতেই চেষ্টা করেছি। এখন কম্পিউটার এক্সপার্ট হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য আপনাকেই চেষ্টা এবং সাধনা করতে হবে।

আশাকরি আর্টিকেলটি আপনার কাজে এসেছে। এই বিষয়ে আপনার কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকলে কমেন্ট করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

4 comments

Posts

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.