অনলাইনে ই-পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম

অনলাইনে ই-পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম

ই-পাসপোর্টে বিভিন্ন সুবিধা থাকায় এমআরপি বা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট থেকে ই-পাসপোর্টের দিকেই গ্রাহকেরা মনোনিবেশ করছে। অনেকেই এমআরপি থেকে রিনিউর মাধ্যমে ই-পাসপোর্টে মুভ করতে চান। তবে ই-পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম কি তা অনেকেরই অজানা।

২০২০ সালের ২২ জানুয়ারিতে ১১৯ তম দেশ হিসেবে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ। ই-পাসপোর্ট অত্যন্ত সিকিউর, যাতে ৩৮ ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।

তাছাড়া, এমআরপি থেকে মুভ করে ই-পাসপোর্ট রিনিউ করার গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ হলো এর ইমিগ্রেশনে সহজবোধ্যতা। ই-পাসপোর্টে একটি মাইক্রোপ্রসেসর চিপ থাকে, যার মধ্যে পারপোর্টধারীর সকল তথ্য সংরক্ষিত থাকে।

ফলে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন প্রসেস কমপ্লিট করতে আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয় না। ই-গেইটের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইমিগ্রেশন প্রসেস সম্পূর্ণ হয়ে যায়।

তাছাড়া, আপনি যদি পুরাতন এমআরপি পাসপোর্টকে রিনিউ করে ই-পাসপোর্ট নেন, তবে পাসপোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাসপোর্টের অধিকাংশ সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠা সম্ভব।

আজ আমি আপনাদের বলব, পাসপোর্ট নবায়ন বা রিনিউ করার নিয়ম সম্পর্কে। সেই সাথে পুরাতন এমআরপি পাসপোর্ট থেকে কিভাবে ই-পাসপোর্টে মুভ করবেন তার পুরো প্রসেস আপনাদের বলে দেওয়া হবে।

পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর নির্দিষ্ট একটি মেয়াদের ভিত্তিতে পাসপোর্ট প্রদান করে থাকে। পুরাতন এমআরপি পাসপোর্টে মেয়াদ ছিল ৫ বছর। আর ই-পাসপোর্টের মেয়াদ ৫ থেকে ০ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে।

যাদের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের পাসপোর্ট নবায়ন করে ই-পাসপোর্ট নিতে হবে। বর্তমানে সারা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাতেই ই-পাসপোর্ট চালু রয়েছে।

যাদের পুরাতন পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ অথবা যারা এমআরপি পাসপোর্ট থেকে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে চান, তারা ঘরে বসেই অনলাইনে বাংলাদেশি পাসপোর্ট রিনিউ ফরম পূরণ করতে পারবেন।

অনলাইনে ই-পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়মাবলী

বাংলাদেশে পাসপোর্ট নবায়ন প্রক্রিয়া প্রায় নতুন ই-পাসপোর্টের আবেদনের মতই। অর্থাৎ, আপনাকে epassport.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে স্বাভাবিক নিয়মেই পাসপোর্ট ফরম পূরণ করতে হবে।

তবে মাঝখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন রয়েছে। যেমন – আইডি ডকুমেন্টস (ID documents) অপশন থেকে MRP অথবা ePP সিলেক্ট করতে হবে।

আমি স্টেপ বাই স্টেপ এম আর পি পাসপোর্টকে ই-পাসপোর্টে কনভার্সন করে দেখাচ্ছি। নিচে দেওয়া স্টেপ গুলো মনোযোগ দিয়ে ফলো করুন-

এম আর পি পাসপোর্ট নবায়ন - পুরাতন পাসপোর্ট রিনিউ
এম আর পি পাসপোর্ট নবায়ন – পুরাতন পাসপোর্ট রিনিউ

স্টেপ ১ :-  

আপনার পাসপোর্টটি যদি এম আর পি পাসপোর্ট থেকে ই-পাসপোর্টে কনভার্সন করতে চান, তবে “Yes, I have a Machine Readable Passport (MRP” অপশনটি সিলেক্ট করবেন।

আর যদি আপনার পাসপোর্টটি ইতিমেধ্যই ই-পাসপোর্ট হয় এবং মেয়াদ শেষ হওয়া বা অন্য কোনো কারণে নতুন করে রিনিউ করতে চান, তবে “Yes, I have an Electronic Passport (ePP)” অপশনটি সিলেক্ট করবেন।

আমি যেহেতু এম আর পি থেকে ই-পাসপোর্টে মুভ করবো, সেহেতু “Yes, I have a Machine Readable Passport (MRP” অপশনটি সিলেক্ট করে নিয়েছি।

স্টেপ ০২ :-

পাসপোর্টের ধরণ সিলেক্ট করার পর পাসপোর্ট রিনিউর কারণ আপনাকে সিলেক্ট করে দিতে হবে।

বাংলাদেশি পাসপোর্ট রিনিউ পদ্ধতি
বাংলাদেশি পাসপোর্ট রিনিউ পদ্ধতি

উপরের ছবিতে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন ৬টি কারণ উল্লেখ করা আছে। এই কারণ গুলোর মধ্যে আপনার পাসপোর্ট রিনিউর কারণ কি তা  সিলেক্ট করে দিন। যেমন-

  • CONVERSION TO EPASPORT – এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্টে কনভার্সন করতে।
  • EXPIRED – পুরাতন পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে।
  • LOS / STOLEN – পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে, পুড়ে গেলে, চুরি হয়ে গেলে।
  • DATA CHANGE – পাসপোর্টের তথ্য সংশোধন বা পরিবর্তন করতে।
  • UNUSABLE -পাসপোর্ট নষ্ট বা ছিড়ে গেলে।
  • OTHER – অন্যান্য যে কোনো কারণে।

আপনার পাসপোর্টটি কেন রিনিউ করতে চান, তা অবশ্যই সিলেক্ট করে দিন।

স্টেপ ০৩ :-

পাসপোর্ট ফরম পূরণ করার নমুনা
পাসপোর্ট ফরম পূরণ করার নমুনা

পাসপোর্ট রিনিউর কারণ উল্লেখ করার পর “Previouspassport number” এই ঘরে আপনার পুরতন পাসপোর্টের নম্বরটি দিতে হবে।

তারপর “Select date of issue” এই খালি ঘরে আপনার পাসপোর্টের ইস্যুর তারিখ এবং “Select date of expiration” এই খালি ঘরে আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ কখন শেষ হবে তা লিখতে হবে।

এর পরের স্টেপ গুলো আপনার মতো করে সঠিক ভাবে পূরণ করে ফরমটি কর্তৃপক্ষের কাছে সাবমিট করুন। তাহলেই ফরম পূরণের কাজ শেষ হয়ে যাবে।

পাসপোর্ট নবায়ন করতে কি কি লাগে?

বাংলাদেশি পাসপোর্ট রিনিউ করতে কি কি কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় তা অনেকেই জানে না। যার কারণে অনেকই পাসপোর্ট রিনিউ ফরম পূরণ করতে বেশ জটিলতা অনুভব করে।

বাংলাদেশে পাসপোর্ট নবায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে যে কাগজপত্রগুলোর প্রয়োজন হবে তা নিম্নরূপঃ-

  • আবেদনপত্রের সারাংশের ফটোকপি (অ্যাপয়েন্টমেন্ট সহ)
  • ভোটার আইডি কার্ড বা ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ এর ফটোকপি
  • এ চালান / মানি অর্ডার / ব্যাংক সার্টিফাইড চেক
  • পূর্ববর্তী পাসপোর্ট ও ডাটা পেজের ফটোকপি
  • সরকারি চাকরিজীবিদের ক্ষেত্রে GO/NOC (যদি থাকে)
  • তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
  • রেজিস্ট্রেশন ফরম বা আবেদনপত্রের ফটোকপি (ঐচ্ছিক)

উপরোক্ত কাগজপত্র গুলোর মাধ্যমে আপনার পুরাতন এমআরপি অথবা ই-পাসপোর্টকে রিনিউ বা নবায়ন করতে পারবেন।

পাসপোর্ট রিনিউ ফরম জমা দেওয়ার নির্দেশিকা

অনেক বন্ধুরা পাসপোর্ট রিনিউ করার পুরো প্রসেসটা স্পষ্টভাবে বুঝে না। যার কারণে প্রায় সময় দেখা যায় পাসপোর্ট নবায়ন করার জন্য অনেকেই দালালের শরাণাপন্ন হয়।

দালালদের দ্বারা পাসপোর্টধারীরা বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছে তার অনেক নজির আছে। তাই সব কাজেই দালালকে না বলুন এবং নিজের পাসপোর্ট নিজেই রিনিউ করুন।

অনলাইনে পাসপোর্টের রিনিউর আবেদনের পর আপনার নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার আগে যেই কাগজপত্র বা ডকুমেন্টগুলো যেভাবে সাথে রাখবেন তা নিচে তুলে ধরা হলোঃ-

অনলাইনে পাসপোর্ট রিনিউ করার আবেদনের কপিটি A4 সাইজের কাগজে উভয় পৃষ্ঠায় প্রিন্ট করে নিন।

ভোটার আইডি কার্ড বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদকে ফটোকপি করে নিন।

পাসপোর্ট রিনিউ ফি উপযুক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করে পরিশোধ করুন এবং টাকা পরিশোধের প্রমাণপত্র সংগ্রহ করুন।

পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে মূল পাসপোর্ট প্রদর্শন করতে হয়। তাই পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় মূলকপি সাথে রাখুন।

পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়া অথবা চুরি হয়ে যাওয়ার পর সেই পাসপোর্টকে রিনিউ করার জন্যে থানায় জিডি করতে হয়। পাসপোর্ট অফিসে  সেই জিডির মূল কপিটি প্রদর্শন করতে হবে।

পাসপোর্ট রিনিউর জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র গুলো সাথে নিয়ে স্বশরীরে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হন।

পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার পর হাতের ফিংগার প্রিন্ট, ক্যামেরা দিয়ে সদ্য তোলা কয়েক কপি ছবি ও চোখের আইরিশ নেওয়া হতে পারে।

পাসপোর্ট রিনিউ সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্ন

পাসপোর্ট নবায়ন বা রিনিউ করতে গিয়ে আমাদের মনে বিভিন্ন ধরণের প্রশ্নের উদ্ভব হয়। এমনই কিছু প্রশ্নের উত্তর নিচে তুলে ধরেছি, যে প্রশ্নগুলোর উত্তর সচারাচর বিভিন্ন মানুষ জানতে চায়।

(ক) পাসপোর্ট নবায়ন করতে কত টাকা লাগে?

উত্তরঃ নতুন পাসপোর্ট করতে যত টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, পুরাতন পাসপোর্ট নবায়ন ফি ঠিক তত টাকাই।

(খ) পাসপোর্ট রিনিউ করতে কত দিন লাগে?

উত্তরঃ পাসপোর্ট নবায়নের সময়টা পাসপোর্টধারীর প্রয়োজন ও বাজেটের উপর অনেকটা নির্ভর করে। সকলেই জানি, প্রয়োজেনের ভিত্তিতে পাসপোর্ট নবায়ন করে হাতে পাওয়ার তিনটি সময়সীমা রয়েছে। যেমন-

  • নিয়মিত পাসপোর্ট (৫ দিনেরে মধ্যে পাওয়া যায়।)
  • জরুরী পাসপোর্ট (৭ দিনেরে দিনেরে মধ্যে পাওয়া যায়।)
  • অতি জরুরী পাসপোর্ট (২ দিনেরে মধ্যে পাওয়া যায়।)

৫ বছর অথবা ০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট রিনিউর ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য।

(গ) হাতে লেখা পাসপোর্ট নবায়ন করা যায়?

উত্তরঃ হ্যাঁ, আপনার নামে বৈধ যে কোনো ধরণের পাসপোর্ট নবায়ন করতে পারবেন।

(ঘ) অনলাইনে পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করলে তার রশিদ কিভাবে সংগ্রহ করবো?

উত্তরঃ ইন্টারনেট বা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়া হলে সাধারণত তার কোনো রশিদ থাকে না। এক্ষেত্রে আপনাকে ফি পরিশোধের ট্রানজিশন আইডি উল্লেখ /প্রদর্শন করতে হবে।

(ঙ) পাসপোর্ট রিনিউ করার সময় স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করা যাবে?

উত্তরঃ না। পাসপোর্ট রিনিউ করার সময় আপনি কেবল বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে অবশ্যই আপনাকে প্রমাণপত্র দেখাতে হবে।

শেষ কথাঃ

প্রিয় পাঠক, পাসপোর্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট। বিদেশ ভ্রমণে পাসপোর্ট অপরিহার্য বিষয়। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের পাসপোর্টেরই একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নতুন করে রিনিউ বা নবায়ন করার প্রয়োজন হয়।

বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে ই-পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম সম্পর্কে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। আশাকরি আপনারা সকলেই পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম জেনে গেছেন।

পাসপোর্ট নবায়ন পদ্ধতি নিয়ে আপনাদের যদি আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে অবশ্যই কমেন্ট করবেন। যথাসাধ্য আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।

Add comment

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.