ই-কমার্সে ব্লগিং এর প্রয়োজনীয়তা

ই-কমার্সে ব্লগিং এর প্রয়োজনীয়তা ২০২৩

ব্লগিং ও ই-কমার্স এই দুটি বিষয়কে পৃথক মনে হলেও ই-কমার্সে ব্লগিং এর বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ব্লগিং ছাড়া ই-কমার্স ব্যবসায় সফল হওয়া এবং সফলতা ধরে রাখা খুবই কঠিন একটি বিষয়।

আমরা সকলেই জানি, ই কমার্স বাণিজ্যের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থাকায় সারাবিশ্বেই অনলাইন ভিত্তিক এই ব্যবসাটির প্রচুর চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে ই-কমার্স ব্যবসাকে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় হিসেবে মনে করা হয়।

যদিও বাংলাদেশে ই কমার্স ব্যবসা এখনও তেমন ডেভেলপ হয়নি, তবে ধীরে ধীরে এদেশেও বিভিন্ন ই কমার্স উদ্যোক্তাগণ প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে ই কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করছে।

ইতোমধ্যেই আমরা দেখেছি, দারাজ, বিডিশপ, স্টারটেক ইত্যাদির মতো ওয়েবসাইট গুলো ই-কমার্সে বেশ ভালো একটি অবস্থান তৈরি করে নিতেও সক্ষম হয়েছে।

ই-কমার্সে ব্লগিং এর প্রয়োজনীয়তা

একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটের জন্য ব্লগিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্লগিং এর মাধ্যমে ই-কমার্স প্রোডাক্ট প্রমোশন, সার্চ ইঞ্জিন র‌্যাঙ্কিং, নতুন কাস্টমার, ব্র্যান্ডিং ভ্যালু বৃদ্ধি সহ আরও অনেক এক্সট্রা সুবিধা পাওয়া যায়।

আপনি একটি বিষয় লক্ষ্য করলে দেখবেন যে, পৃথিবীতে যত বড় বড় ই-কমার্স ওয়েবসাইট আছে তাদের প্রায় সকলেরই ব্লগিং সিস্টেম রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো?

এর কারণ একটিই, ব্লগিং এমন একটি বিষয় যা ই-কমার্স ব্যবসাকে সহজেই সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। একটি ই -কমার্স ওয়েবসাইট ব্লগিং এর মাধ্যমে যে বেনিফিট গুলো পায় তা নিম্নরূপ –

পণ্যের প্রচারে ব্লগিং এর গুরুত্ব

ই-কমার্সে ব্লগিং মূলত কোনো পণ্যের বিস্তারিত বর্ণনার বহিঃপ্রকাশ। এই ধরণের ব্লগিংয়ে পণ্যের ফিচার সমূহ এবং পণ্যের ভালো -মন্দ দিক গুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। যেটাকে পণ্যের রিভিউ বলা যায়।

ই-কমার্স উদ্যোক্তারা তাদের যে কোনো পণ্য বা প্রোডাক্ট এর স্পেসিফিক বর্ণনার মাধ্যমে কাঙ্খিত পণ্য সম্পর্কে গ্রাহককে খুঁটিনাটি বিষয় সহজেই বুঝাতে পারে ব্লগিং এর মাধ্যমে।

একটি ব্লগ আর্টিকেল বেশ কিছু কন্টেন্টের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়। যেখানে থাকে ইনফরমেশন, ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি। ই-কমার্স পণ্যের রিভিউ রিলেটেড ব্লগ হলে সেখানে পণ্যের ছবি সহ বিভিন্ন ইনফরমেশন থাকে।

ব্লগিং যে কোনো বিষয়ের উপর অনেক শক্তিশালী একটি উপস্থাপন পদ্ধতি এবং জনপ্রিয় নেটওয়ার্কিংও বটে। গ্রাহকেরা পণ্য ক্রয় করার আগে সর্বপ্রথম সেই পণ্য সম্পর্কে জানতে চায়।

আরও জানুনঃ ব্লগিং এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ৭ টি কমন ভুল

আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটে যদি ব্লগিং সিস্টেম থাকে, তবে আপনার পণ্যের অনলাইন ভিত্তিক প্রচারণার কাজটা অনেকটা ব্লগিং এর মাধ্যমে সহজেই পূরণ করতে পারবেন।

সার্চ ইঞ্জিন র‌্যাঙ্কিংয়ে ই-কমার্স ব্লগিং

ওয়েবসাইটের নিশ যে কোনো বিষয়ের হোকনা কেন, সর্বপ্রথম টার্গেট থাকে সার্চ ইঞ্জিন। সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্ট পেজ থেকে যে পরিমাণ অর্গানিক ট্রাফিক / গ্রাহক পাওয়া যায়, তা আর অন্য কোনো ভাবেই সম্ভব না।

অনেক ক্ষেত্রে এমনও হয় যে, ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিন রেংকিংয়ে না আনতে পারলে ই-কমার্স ব্যবসায় টিকে থাকাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

সার্চ ইঞ্জিন মূলত ইনফরমেশন কে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়। অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আছে, যারা শুধু পণ্যের ছবি দিয়েই ওয়েবসাইট সাজিয়ে রাখে। যেখানে পণ্যের গ্রহণযোগ্য কোনো ইনফরশেন থাকে না।

এই ধরণের ওয়েবসাইট গুলো তেমন সেল জেনারেট করতেও পারে না। কারণ, তারা গ্রাহককে বুঝাতে ব্যর্থ। আবার সেই সমস্ত ওয়েবসাইটে ইনফরমেশন না থাকায় সার্চ ইঞ্জিনেও রেংক পায় না।

আরও জানুনঃ ফ্রিতেই ব্লগ সাইট খোলার নিয়ম

ব্লগিং ইনফরমেশন ভিত্তিক হওয়ায় এটা এতটাই কার্যকরী যে, সার্চ ইঞ্জিনে রেংক করার পাশাপাশি পণ্যের সেল বাড়িয়ে দেয়। এটাই মূলত ই-কমার্স ব্যবসার প্রধান লক্ষ্য।

নতুন কাস্টমার তৈরিতে ব্লগিং

আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে কোনো নতুন পণ্য ক্রয় করার আগে গুগল থেকে সেই পণ্য সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।

সাধারণ ভাবে গুগলে বিভিন্ন কিওয়ার্ড লিখে সার্চ দেই এবং সেই কিওয়ার্ডের ভিত্তিতে যেই রেজাল্ট গুলো আসে তা থেকেই আমরা ইনফরমেশন কালেক্ট করি।

মনে করুন আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটটি ইলেক্ট্রনিক পণ্যের উপর তৈরি করা। যেখানে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ইত্যাদি সহ সকল ডিজিটাল পণ্য পাওয়া যায়।

পণ্য বিক্রয়ের পাশাপাশি আপনার সেই ই-কমার্সে ব্লগিং সিস্টেমও আছে। আপনি “iphone 13 pro max price in usa”  কিওয়ার্ড দিয়ে একটি ব্লগ পাবলিশ করলেন সেই সাইটে।

ব্লগটি লিখতে গিয়ে আপনার ই-কমার্স শপ থেকে iphone 13 pro max পণ্যটির লিংক ব্লগ আর্টিকেলে ইন্টিগ্রেশন করে দেবেন নিশ্চই।

আর এই পরিস্থিতিতে যদি আপনার সেই ব্লগটি গুগলে রেংক করে তবে বড় একটি চান্স রয়েছে যে আপনার ই-কমার্স সাইট থেকে iphone 13 pro max পণ্যটির জন্য নতুন নতুন অনেক কাস্টমার পাওয়ার।

কোম্পানির প্রমোশন ও ব্র্যান্ড ভ্যালু

ব্লগ মূলত ইনফরমেশনের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। ই-কমার্সে ব্লগিং করার মানেই হলো কোম্পানির প্রমোশন ও ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি করা।

আপনি যখন আপনার ই-কমার্স ব্যবসার ওয়েবসাইটির বিভিন্ন প্রোডাক্ট সম্পর্কে ব্লগ প্রকাশ করবেন, তখন নিশ্চই আপনার কোম্পানির নাম, ব্র্যান্ড, লোগো, ঠিকানা ইত্যাদি সহ প্রায় সব কিছুই ব্লগে উল্লেখ থাকবে।

কোনো ভিজিটর বা গ্রাহক যখন সেই ব্লগটি পড়তে আসবে তখন আপনার কোম্পানি সম্পর্কে খুব ভালো একটি ধারণা পাবেন তিনি।

এই ধরণের ব্লগ প্রকাশের মাধ্যমে আপনার ই-কমার্স কোম্পানিটি অর্গানিক ভাবে সম্পূর্ণ ফ্রি একটি প্রক্রিয়ায় সাধারণ গ্রাহকের কাছে পরিচিতি পাবে।

কাস্টমার ধরে রাখতে ব্লগিং

ই-কমার্স ওয়েবসাইটের পণ্য প্রমোশনে ব্লগিং করলে পণ্যের মূল ফিচার, পণ্যের ভালো-মন্দ দিক গুলো নিয়ে আলোচনা করতে হয়। কোনো ভুল ইনফরশেন দেওয়া যায় না।

আবার পণ্য ব্যবহারের পদ্ধতি, পণ্যের সমস্যা গুলোর সমাধান নিয়েও ব্লগে কথা বলা হয়। পণ্য ক্রয় করার পর গ্রাহকেরা এমন ব্লগ থেকে পুরোপুরি সেটিসফাই থাকে।

আরও জানুনঃ ব্লগ লেখার নিয়ম কানুন এবং কৌশল সমূহ

ই-কমার্স সাইটটির প্রতিও তাদের আস্থা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটের কাস্টমার ধরে রাখার জন্য ই-কমার্সে ব্লগিং করলে খুবই ভালো একটি ফিডব্যাক পাবেন।

কাস্টমার ফিডব্যাক ও ই-কমার্স উন্নতি

ই-কমার্স ওয়েবসাইটে ব্লগিং করলে খুব ভালো কাস্টমার ফিডব্যাক পাওয়া যায়। ই-কমার্সে ব্লগিং করার মানে এইনা যে, শুধু পণ্য রিভিউ।

পণ্যের রিভিউর পাশাপাশি কাস্টমারদের প্রশ্ন গুলোর উত্তর ও তাদের মনের কথা গুলো ব্লগিংয়ে তুলে ধরা হয়। এটা গ্রাহককে আনন্দের সাথে পণ্য ক্রয় করার একটি মন-মানসিকতা তৈরি করে।

বিশেষ করে ই-কমার্সের প্রসারে ব্লগিং করলে আপনার ভুল গুলো সহজেই বুঝতে পারবেন এবং ই-কমার্স উন্নতিতে কাস্টমার ফিডব্যাক আপনাকে এগিয়ে যেতে অনেক সাহায্য করবে।

শেষ কথাঃ

প্রিয় পাঠক, বর্তমান সময়ে অনলাইন বাণিজ্যের সবচেয়ে বেশি স্থান দখন করে রেখেছে ই-কমার্স ব্যবসা। আপনি যদি একজন ই-কমার্স উদ্যোক্তা হতে চান এবং ই-কমার্স ব্যবসায় সহজেই সফল হতে চান, তবে ই-কমার্সের জন্য ব্লগিং করা খুবই জরুরি।

আমরা অনলাইন ইনকামের উপর বিভিন্ন টিপস -ট্রিক্স প্রতিনিয়তই শেয়ার করছি। পাশাপাশি আইটি সল্যুশন রিলেটেড সকল সমস্যার সামাধান ও পরামর্শ নিয়েও কথা বলছি। আশাকরি এতে আপনারা উপকৃত হচ্ছেন।

যাইহোক, ই-কমার্সে ব্লগিং এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আজকের এই আলোচনাটি আশাকরি আপনাদের উপকারে আসবে। আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করতে পারেন। সবাইকে ধন্যবাদ।

Add comment

Posts

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.