Google Adsense সিপিসি কি - সিটিআর কি - আরপিএম কি

Google Adsense সিপিসি কি? সিটিআর কি? আরপিএম কি?

অনলাইন ভিত্তিক পেসিভ ইনকাম গুলোর মধ্যে খুবই জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হলো গুগল এডসেন্স (Google Adsense)। এটি প্রায় সবার কাছেই ”সোনার হরিণ” নামে খ্যাত। যারা এডসেন্স থেকে ইনকাম করেন তারা অবশ্যই Adsense CPC, CTR, RPM এবং Impressions শব্দের সাথে পরিচিত। তবে এই শব্দগুলোর মিনিং কি তা অনেকেই জানিনা। বিশেষ করে নতুন ব্যবহারকারীদের অনেকেই জানতে চান সিপিসি কি, সিটিআর কি এবং আরপিএম কি বা কিভাবে কাজ করে?

বর্তমানে ২০ লক্ষেরও অধিক মানুষ গুগল এডসেন্স একাউন্ট ব্যবহার করে। বিশেষ করে যারা মূলত ইউটিউবিং এবং ব্লগিং করে অনলাইন থেকে ইনকাম করেন তাদের প্রায় সকলেই Google Adsense ব্যবহারকারী।

বাংলাদেশে এমন হাজার হাজার ইউটিউবার এবং ব্লগার রয়েছে। আপনিও যদি তাদের মধ্যে একজন হয়ে থাকেন, তবে আপনাকে এডসেন্স ব্যবহারকারী হিসেবে CPC, CTR, RPM, Pageview এবং Impressions সম্পর্কে জানা জরুরি।

কেননা, এডসেন্স একাউন্ট ব্যবহার করতে গিয়ে এডসেন্সের ডেশবোর্ডে এই শব্দগুলো আমরা সবসময় দেখতে পাই। এগুলো মূলত কি এবং কিভাবে কাজ করে চলুন জেনে নেওয়া যাক।

সিপিসি কি?

সিপিসি (CPC) এর পূর্ণরূপ হলো Cost Per Click. অর্থাৎ, প্রতি ক্লিকে আপনি কত ডলার পাবেন।

মনে করুন, আপনি একজন ব্লগার বা ইউটিউবার। ইনকামের জন্য গুগল এডসেন্স ব্যবহার করেন এবং এক মাসে আপনার $100 ইনকাম হয়েছে।

এই $100 ইনকাম হতে মোট কতগুলো বিজ্ঞাপণে ক্লিক পড়েছে তাকেই CPC বলে।

উদাহারণস্বরূপঃ বাংলাদেশী একটি ব্লগ ওয়েবসাইটে গত কালের সিপিসি ছিল $0.30 ডলার এবং মোট ক্লিক এসেছে ৫০ টি। গতকালের মোট ইনকাম দাঁড়ালো $0.30 * 50 = $15 ডলার।

এশিয়া এবং ইউরোপ -আমেরিকার সিপিসিতে অনেক ব্যবধান রয়েছে। এটি মূলত কিওয়ার্ড এবং বিজ্ঞাপন দাতাদের বাজেটের উপর ভিত্তি করে।

যেমন, বাংলাদেশের সিপিসির এভারেজ $0.01 থেকে $0.30 হয় পর্যন্ত হয়। আবার ইউরোপ-আমেরিকার সিপিসি প্রায় $0.10 থেকে $7 -$8 পর্যন্ত হতে পারে।

সিটিআর কি?

সিটিআর (CTR) এর পূর্ণরূপ হলো Click-through rate. অর্থাৎ, মোট পেজ ভিউয়ের উপর শতকরা ক্লিকের পরিমাণ।

মনে করুন, আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওতে বা ব্লগ ওয়েবসাইটে ১,০০০টি পেজ ভিউ হয়েছে এবং ০০টি ক্লিক এসেছে।

তাহলে আপনার CTR হবে 10%। আবার আপনার ব্লগে যদি এক দিনে ০০টি পেজ ভিউ হয় এবং ৫টি ক্লিক আসে, তাহলে আপনার CTR হবে 5% ।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে CTR বেশী হওয়ার মানে হলো বিজ্ঞাপণে ক্লিক বেশী আসা। আবার বিজ্ঞাপণে ক্লিক বেশী আসার মানে হলো ইনকাম বেড়ে যাওয়া। তবে এখানে অবশ্যই Pageview এর সাথে Click এর সামঞ্জস্যতা থাকতে হবে।

আরো পড়ুনঃ   বাংলা ও ইংরেজিতে ইমেইল লেখার নিয়ম

অনেকেই প্রশ্ন করেন, CTR কত থাকা ভালো? এই প্রশ্নের উত্তরটা পাওয়ার আগে আপনাকে আরেকটি বিষয় জেনে রাখা জরুরি।

যারা ব্লগিং করেন তারা CTR এর সাথে দুইভাবে পরিচিত। গুগল সার্চ কনসোল এর CTR এবং গুগল এডসেন্স এর CTR.

এই দুটি CTR এর মধ্যে অনেকটা পার্থক্য রয়েছে। গুগল সার্চ কনসোলের সিটিআর যত বেশী হবে ততই ভালো।

অন্যদিকে গুগল এডসেন্স এর CTR যত বেশী হবে তত ভালো নয়; বরং CTR যদি 10% এর উপরে চলে যায় তবে অবশ্যই আপনাকে ওয়েবসাইটের এড সাময়িক ভাবে বন্ধ করে CTR কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

অনেক এক্সপার্টরা এটাই মনে করেন এবং তারা বলেন যে, গুগল এডসেন্স CTR যদি Pageview এর তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে Google Adsense Account নষ্ট হয়ে যাওয়ার চান্স রয়েছে।

আরপিএম মানে কি?

আরপিএম (RPM) এর পূর্ণরূপ হলো Revenue Per mile. অর্থাৎ, প্রতি এক হাজার ভিউতে কত ডলার দেওয়া হবে তার হিসেব।

RPM এর হিসেবটা CPC বা CTR এর উপর ভিত্তি করে নির্ণয় করা হয় না। এটি মূলত ভিজিটরদের লোকেশন এবং পেজ ভিউ এর উপর ভিত্তি করে হিসেব করা হয়।

এশিয়ার দেশগুলোর ভিজিটরদের থেকে অনেক বেশী RPM ধরা হয় ইউরোপ -আমেরিকার দেশগুলোর ভিজিটরদের ক্ষেত্রে।

সহজ ভাবে বলতে গেলে Google Adsense RPM মূলত ভিজিটরকে কোয়ালিটি বা ওজনের উপর অনেকটা নির্ভর করে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের তুলনায় ইউরোপের দেশ গুলোর মানুষেরা অনেক বেশী সম্পদশালী এবং তাদের বাজেটও বেশী।

আরপিএম কিভাবে কাজ করে আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

ইম্প্রেশন মানে কি?

ইম্প্রেশন (Impressions) মূলত আপনার ইউটিউব ভিডিও বা ব্লগের পোস্টে কতগুলো বিজ্ঞাপন শো করেছে তার হিসেব।

মনে করুন, আপনার ইউটিউব ভিডিওতে ২০০০ ভিউ হয়েছে এবং প্রত্যেকটি ভিডিওতে এভারেজে ৩ টি বিজ্ঞাপণ ভিজিটরদের সামনে শো করেছে।

২০০০ ভিউতে এভারেজে ৩ টি বিজ্ঞাপন শো হওয়ার মানে হলো আপনার ইউটিউব ভিডিওতে মোট ৬ হাজার ইম্প্রেশন হয়েছে। অর্থাৎ, ছয় হাজার বার বিজ্ঞাপন দেখানো হয়েছে।

এটাকেই মূলত গুগল এডসেন্সের ভাষায় ইম্প্রেশন (Impressions) বলা হয়।

Pageview এর কথা প্রায় সকলেই জানেন। তাই আলাদা ভাবে এটিকে বলার প্রয়োজনবোধ করছি না।

গুগল এডসেন্স ইনকাম বাড়ানোর উপায়

এডসেন্স ব্যবহারকারীদের প্রায় সকলেই চায় গুগল এডসেন্স ইনকাম বিভিন্ন ভাবে বাড়িয়ে নেওয়ার জন্যে। তবে আদৌ কি ব্যবহারকারীদের পক্ষে এটা সম্ভব হয়? আর সম্ভব হলেও কিভাবে?

আরো পড়ুনঃ   মোবাইলে বাংলা কিবোর্ড ডাউনলোড ও A-Z সেটিং প্রক্রিয়া

লো সিপিসির কারণেই মূলত এডসেন্স আয় কম হয়। তবে অনেকেই এটা মেনে না নিতে পেরে বিভিন্ন পন্থায় সিপিসি বাড়ানোর চেষ্টা করে। যেমন, লো সিপিসির Ads গুলো ব্লক করে দেওয়া, ইউরোপ কান্ট্রিকে টার্গেট করা এবং হাই সিপিসির কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করা ইত্যাদি।

এমনও এডসেন্স ব্যবহারকারী আছেন, যারা সিপিসি বাড়াতে অবৈধ পন্থাও বেছে নেয়। তবে এটা কোনো ভাবেই সিকিউর না এবং করাও উচিত না।

তবে গুগল অ্যাডসেন্স ইনকাম বাড়ানোর কিছু বৈধ উপায় রয়েছে। বড় বড় ব্লগার এবং ইউটিবাররা মূলত এই পদ্ধতিগুলোই অনুসরণ করে তাদের ইনকাম বাড়িয়ে নেয়।

. হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট

হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট তৈরি করতে পারলে ব্লগ বা ইউটিউবে এডসেন্স ইনকাম অটোমেটিক বেড়ে যায়।

তবে হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট বলতে কি বুঝায় তা আমাদের বেশীর ভাগ মানুষই জানি না।

ভিডিওর রেজুলেশন ভালো হওয়া বা বড় বড় ব্লগ লেখার মানেই হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট না। তবে হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট তৈরির জন্যে এগুলোও জরুরি।

আপনি যখন একটি ভিডিও বা ব্লগ তৈরি করবেন, তখন চেষ্টা করবেন যে একটি বিষয়ের আলোচনাকে সুস্পষ্টকে ভিজিটরদের সামনে তুলে ধরতে।

ভিজিটরকে কাঙ্খিত বিষয়টি বুঝানোর জন্যে প্রয়োজনে ইমেজ, ইনফোগ্রাফিক, অ্যানিমেশন বা ভিডিও ফুটেজ কন্টেন্টে রাখতে হবে।

তাছাড়া, আপনাকে এমন ভাবে কন্টেন্ট তৈরি করা উচিত, যে কন্টেন্টের মাধ্যমে ভিজিটর সত্যিই উপকৃত হবে। এই ধরণের কন্টেন্টকে গুগল সবচেয়ে বেশী প্রাধান্য দেয়। আবার গুগল সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্ট পেজেও এমন কন্টেন্ট রেংকিংয়ে এগিয়ে থাকে।

এখন প্রশ্ন হতে পারে, হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট গুগল এডসেন্স ইনকাম কিভাবে বাড়ায়? এই প্রশ্নের উত্তর বেশ সহজ।

হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট গুগল সার্চ পেজে ভালো পারফর্মেন্স করে, এতে ওয়েবসাইটে বেশী ভিজিটর প্রবেশ করে এবং অর্গানিক ভাবে পেজ ভিউও বেশী হয়। এটা গুগল অ্যাডসেন্স আয়কে অনেক বেশী বুস্ট করে দেয়।

তাছাড়া, এডসেন্স ইনকাম বাড়াতে সোশ্যাল, রেফারেল এবং ডাইরেক্ট ট্রাফিকের চেয়ে অর্গানিক ট্রাফিক অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

২. হাই সিপিসি কিওয়ার্ড

যেই কিওয়ার্ডে বাণিজ্যিক স্বার্থ থাকে এবং যেই কিওয়ার্ডগুলো লিখে গুগলে বেশী সার্চ হয়, সাধারণত সেই ধরণের কিওয়ার্ডের সিপিসি অনেক বেশী হয়।

আপনি যদি ইনফরমেশন রিলেটেড নিশের উপর কাজ করেন, তবে আপনার নিশের জন্যও হাই সিপিসি কিওয়ার্ড রয়েছে। এগুলো আপনাকে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে বের করতে হবে।

কিওয়ার্ড রিসার্চ মূলত এসইও -এর মধ্যে পড়ে। আপনি যদি কিওয়ার্ড রিসার্চের পুরো বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চান, তবে এসইও (SEO) শেখাটা অনেকটা জরুরি।

হাই সিপিসির কিওয়ার্ড দিয়ে আপনি যদি আপনার ব্লগে আর্টিকেল লিখেন, তবে গুগল সেই ধরণের কিওয়ারর্ডের ভিত্তিতেই আপনার ব্লগে বিজ্ঞাপন দেখাবে। এতে করে সিপিসি বাড়ার পাশাপাশি আপনার গুগল এডসেন্স ইনকামও অনেক বুস্ট হবে।

আরো পড়ুনঃ   বাংলা ও ইংরেজিতে ইমেইল লেখার নিয়ম

৩. সঠিক এড প্লেসমেন্ট

একটি ব্লগ ওয়েবসাইটের এডসেন্স ইনকাম বাড়াতে জন্য সঠিক এড প্লেসমেন্ট (Proper ad placement) খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা প্রায় অনেকেই Google Adsense এর অটো এড ব্যবহার করি। অটো এড ব্যবহারের ফলে গুগল নিজেরাই এড প্লেসমেন্ট ঠিক করে নেয়। এটা এডসেন্সের ইনকাম বাড়াতে সাহায্য করে।

তবে আপনিও ইচ্ছে করলে নিজের মতো করে ওয়েবসাইটে এড বসাতে পারেন।

কিন্তু লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো কাস্টম এ্যাড বসাতে প্রোপারলি এ্যাড প্লেসমেন্ট নির্ণয় করা অনেকটা কঠিন। যা সচারচার সবাই করতে পারে না। এখানে ওয়েবসাইটের থিমেরও কিছু বিষয় আছে।

আমি বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইটে Auto Ads এবং Custom Ads এর পার্থক্য বুঝতে চেষ্টা করি। আমার অভিজ্ঞাতায় দেখছি যে, Auto Ads এর চেয়ে Custom Ads এর সিপিসি সামান্য বাড়ে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এর বিপরীতও হয়।

কাস্টম এ্যাড বসাতে গিয়ে প্রোপারলি এ্যাড প্লেসমেন্ট নির্ণয় না করতে পারলে ইনকাম আরো কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নতুন হয়ে থাকলে Custom Ads বসানোর কোনো প্রয়োজন নেই। গুগলের Auto Ads এ্যাডই ব্যবহার করেন। তারা নিজেরাই সঠিক প্লেসমেন্ট নির্ণয় করে এ্যাড শো করাবে।

ওয়েবসাইটের এড প্লেসমেন্ট ঠিক থাকলে অটোমেটিক গুগল এডসেন্স ইনকাম বাড়বে।

মোটকথা হলো গুগল অ্যাডসেন্স ইনকাম বাড়াতে হলে প্রথমত হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে, তারপর হাই সিপিসি কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করতে হবে এবং সঠিক এড প্লেসমেন্ট নির্বাচন করতে হবে।

শেষ কথাঃ

প্রিয় পাঠক, আপনি যদি গুগল অ্যাডসেন্স ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন, তবে CPC, CTR, RPM, এবং Impressions সম্পর্কে জেনে নেওয়া খুবই জরুরি ছিল। যা আজ জেনে নিতেও সক্ষম হয়েছেন।

তবে আপনি যদি ব্লগার বা ইউটিউবার হয়ে থাকেন, তবে কখনই Adsense এর CPC বা ইনকাম নিয়ে খুব বেশী চিন্তা করবেন না। আপনি নিয়মিত কাজ করে যান, একসময় সিপিসি বা ইনকাম অটোমেটিক ভাবে বাড়তে শুরু করবে।

আমি দেখেছি যারা কাজের চেয়ে বেশী গুরুত্ব দেয় CPC বা ইনকামকে। তাদের বেশীরভাগ মানুষই এই পথে সফল হতে পারেনি।

এক সময় আমিও এগুলো নিয়ে চিন্তা করে অনেক সময় ব্যয় করেছি। এতে কোনো লাভ হয়নি, বরং ক্ষতি হয়েছে। তাই আপনারাও কাজের প্রতি মনোযোগ দিন। আল্লাহ চাহেত সফলতা একদিন আপনার কাছেও এসে ধরা দেবে, ইনশাআল্লাহ।

NAZIRUL ISLAM NAKIB

যত জ্ঞান-ধন করেছি অর্জন জীবনের প্রয়োজনে,
তার সবটুকুই বিলাতে চাই সৃষ্টির কল্যাণে।

Add comment