লিনাক্স ও উইন্ডোজ এর পার্থক্য

লিনাক্স ও উইন্ডোজ এর পার্থক্য (Linux VS Windows)

উইন্ডোজ ও লিনাক্স বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আলোচিত কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম। ব্যবহারকারীদের মধ্যে লিনাক্স ও উইন্ডোজ এর পার্থক্য, সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে প্রায় সময় আলোচনা হয়ে থাকে।

একদিকে উইন্ডোজ (Windows) হলো পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম। অন্যদিকে লিনাক্স (Linux) হচ্ছে সবচেয়ে উন্নত এবং ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম।

বেশি-বিদেশি বিভিন্ন হার্ডওয়্যার কোম্পানি এই দুই অপারেটিং সিস্টেম এর জন্যই বিভিন্ন ড্রাইভার অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে থাকেন। এই দুই অপারেটিং সিস্টেম বর্তমানে শুধুমাত্র ডেক্সটপ কম্পিউটারেই সীমাবদ্ধ নেই।

বরং ল্যাপটপ, ট্যাব ও মোবাইলের অপারেটিং সিস্টেম হিসেবেও এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রায় সব জায়গায় এই দুই অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে বিরামহীন প্রতিযোগীতা চলে।

উইন্ডোজ ও লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের সুবিধা গুলো কি কি, যার কারণে এই দুটি অপারেটিং সিস্টেমের প্রতি মানুষের এত আগ্রহ?

লিনাক্স ও উইন্ডোজ এর পার্থক্য বের করতে পারলেই আপনিও জানতে পারবেন এই দুই অপারেটিং সিস্টেম এর কার্যকারীতা ও সুবিধা -অসুবিধা সম্পর্কে।

লিনাক্স কি?

লিনাক্স (Linux) উইন্ডোজের মতই একটি ‍অপারেটিং সিস্টেম। যা কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাব ও মোবাইলের অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

লিনাক্সের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি একটি ওপেনসোর্স অপারেটিং সিস্টেম, যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই ব্যবহার করা যায়।

লিনাক্সের সবচেয়ে আকর্ষণের জায়গা হলো এটি ওপেনসোর্স সিস্টেম হওয়ায় যে কেউ চাইলে তার প্রোগ্রামকে নিজের মতো করে সাজিয়ে নিতে পারে।

আবার নিলাক্স অত্যন্ত সিকিউটর এবং শক্তিশালী অপারেটিং সিস্টেম। একারণে বিশ্বের বড় বড় টেক কোম্পানি যেমন – গুগল, ফেসবুক তাদের ক্লাউড কম্পিউটারে নিলাক্স ব্যবহার করছে।

উইন্ডোজ কি?

উইন্ডোজ (Windows) হলো পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম। যা কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাব ও মোবাইলের অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর সফটওয়্যারগত সমৃদ্ধি। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এর জন্য প্রায় সব ধরণের সফটওয়্যার সহজেই পাওয়া যায়।

তাছাড়া, উইন্ডোজ প্রায় সকল কাজের জন্যই ব্যবহারযোগ্য। সে কারণেই উইন্ডোজের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। উইন্ডোজ ও লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের সুবিধা গুলো বুঝতে হলে এর পার্থক্য সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।

লিনাক্স ও উইন্ডোজ এর পার্থক্য

লিনাক্স (Linux) উইন্ডোজ
(Windows)
লিনাক্স একটি
ওপেন সোর্স
অপারেটিং সিস্টেম।
উইন্ডোজ
ওপেন সোর্স
অপারেটিং
সিস্টেম নয়।
লিনাক্স সম্পূর্ণ
বিনামূল্যে।
উইন্ডোজ ক্রয়
করতে হয়।
লিনাক্সে
মনোলিথিক
কার্নেল ব্যবহার
করা হয়।
এর মধ্যে
মাইক্রো
কার্নেল
ব্যবহার
করা হয়।
উইন্ডোজের
তুলনায় লিনাক্স
বেশি উন্নত।
লিনাক্সের
তুলনায়
উইন্ডোজ
কম উন্নত।
লিনাক্স
উইন্ডোজের
চেয়ে বেশি
সিকিউর।
উইন্ডোজ
লিনাক্সের
তুলনায় কম
সিকিউর।
লিনাক্স
হ্যাকিংয়ে
এডভান্স
সিস্টেম
ব্যবহার
করতে দেয়।
উইন্ডোজ
হ্যাকিংয়ে
খুব বেশি
এডভান্স
সিস্টেম
দেয় না।
ডিরেক্টরি
আলাদা
করার জন্য
ফরওয়ার্ড
স্ল্যাশ
ব্যবহার
করা হয়।
ব্যাক স্ল্যাশ
থাকাকালীন
ডিরেক্টরি
আলাদা
করার জন্য
ব্যবহার
করা হয়।
ব্যবহারকারীর
অ্যাকাউন্ট
৩ প্রকার-(1) নিয়মিত,
(2) রুট,
(3) পরিষেবা
অ্যাকাউন্ট
ব্যবহারকারীর
অ্যাকাউন্ট
4 ধরনের হয়-(1) প্রশাসক,
(2) মানক,
(3) শিশু,
(4) অতিথি।
কেস সংবেদনশীল
ক্ষেত্রে লিনাক্স ফাইল
নামকরণ কনভেনশন।
সুতরাং,
লিনাক্স/ইউনিক্স
অপারেটিং সিস্টেমে
নমুনা এবং নমুনা
হল 2টি ভিন্ন ফাইল।
উইন্ডোজে
আপনার
একই ফোল্ডারে
একই নামের
2টি ফাইল
থাকতে
পারে না।

উইন্ডোজ ও লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে অনেক ফিচার ও সুবিধা রয়েছে। তবে সত্যিকার অর্থে একজন সাধারণ ব্যবহারকারী কখনই উইন্ডোজ বা লিনাক্সের সকল ফিচার ব্যবহার করে না।

তবে এমন কিছু ফিচার ও বিষয় রয়েছে, যা ইউজারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন -উইন্ডোজের জন্য একই ক্যাটারির শত শত সফটওয়্যার এভেইলেবল রয়েছে।

নির্দিষ্ট একটি ক্যাটাগরির কোনো সফটওয়্যার যদি ভালো না লাগে, তবে এর বিপরীতে অন্য সফটওয়্যার পাওয়া যায়।

কিন্তু এই বিষয়টি লিনাক্সের ক্ষেত্রে সচারাচর চোখে পড়ে না। লিনাক্স অনেক উন্নত অপারেটিং সিস্টেম হলেও এখনও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করা যায়।

তবে একথা সত্য যে, লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের জন্যও প্রতিনিয়তই নতুন নতুন সফটওয়্যার যুক্ত হচ্ছে। এই সমৃদ্ধতা অদূর ভবিষ্যতেই লিনাক্সকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

উইন্ডোজ নাকি লিনাক্স কোনটা ভালো?

বিভিন্ন ফোরাম ও ফেসবুক গ্রুপে উইন্ডোজ ও লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম প্রসঙ্গে অনেকেই প্রশ্ন করেন, উইন্ডোজ নাকি লিনাক্স কোনটা ব্যবহার করবো?

এই প্রসঙ্গটি সম্পূর্ণ ইউজারের উপর ডিপেন্ড করবে। অর্থাৎ, আপনার কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমটি কীসের জন্য ব্যবহার করবেন?

যদি এমন হয় যে, আপনার কম্পিউটারটি ওয়েব সার্ভার, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, হ্যাকিং ইত্যাদির কাজে ব্যবহার করা হবে, তবে নিলাক্স অপারেটিং সিস্টেম উক্ত কাজ গুলোর জন্য সবচেয়ে ভালো।

অন্যদিকে আপনার কম্পিউটারের পারপাস যদি গ্রাফিক্স ডিজাইন, গেমিং ও ভিডিও এডিটিং রিলেটেড হয়, তবে এক্ষেত্রে আপনার জন্যে উইন্ডোজ ব্যবহার করাই উত্তম।

আপনি যদি উপরোক্ত লিনাক্স ও উইন্ডোজ এর পার্থক্যের টেবিলটি ভালো করে ফলো করেন, তবে নিজে নিজেই ফাইন্ড আউট করতে পারবেন আপনার জন্য কোন অপারেটিং সিস্টেমটি সবচেয়ে উপযুক্ত হবে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথাঃ

প্রিয় পাঠক, লিনাক্স সম্পূর্ণ ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম এবং উইন্ডোজ হলো সম্পূর্ণ পেইড অপারেটিং সিস্টেম। এই দুটি অপারেটিং সিস্টেমই ব্যবহারকারীদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

লিনাক্স ব্যবহার করা হয় অত্যন্ত উচ্চ মানের কাজ সম্পাদন করার ক্ষেত্রে। বিশেষ করে সুপার কম্পিউটার, ওয়েব সার্ভার, ক্লাউড কম্পিউটিং ইত্যাদিতে।

অন্যদিকে উইন্ডোজ প্রায় সকল কাজেই কম-বেশি ব্যবহার করা হয়। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উইন্ডোজের অপর্চুনিটি একটি বেশী। আর এডভান্স ব্যবহারকারীদের জন্য নিলাক্সের অপর্চুনিটি বেশি।

এখানেই মূলত লিনাক্স ও উইন্ডোজ এর পার্থক্য। আশাকরি আপনারা পুরো বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছেন। এই বিষয়ে যদি কোনো পরামর্শ বা প্রশ্ন থাকে তবে অবশ্যই কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

Add comment

Posts

Your Header Sidebar area is currently empty. Hurry up and add some widgets.