এসইও করার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন (বিনামূল্যে এসইও শিখুন)

এসইও করার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন (বিনামূল্যে এসইও শিখুন)

বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে এক সুদীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এসইও এর কোনো বিকল্প নেই। অনলাইন ভিত্তিক যে কোনো ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে এসইও খুবই কার্যকরী প্রদক্ষেপ। আজকের এসইও ব্লগটিতে আমি এসইও করার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন আপনার সামনে উপস্থাপন করবো।

আপনারা জেনে অবাক হবেন, ২০২০ সালে এসইও মার্কেটিং ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় $47.5 billion ডলার ব্যয় করা হয়েছে। এমনকি COVID-19 প্রাদুর্ভাবের সময়ও এই বাজেট ঠিক ছিল।

ধারণা করা হচ্ছে ২০২৩ সালের মধ্যে এসইও শিল্পের মূল্য ৭৭.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। (দ্য বিজনেস রিসার্চ কোম্পানি, ২০২০)।

এই সম্ভাবনার পথ ধরে বিশ্বের লক্ষ লক্ষ কোম্পানি তাদের বিজনেসকে এগিয়ে নিতে এসইও এর পেছনে মাসে হাজার হাজার ডলার ব্যয় করছে।

আমরা যারা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিজের ব্যবসাকে দাঁড় করাতে চাই, তারা কিভাবে ওয়েবসাইটকে এসইও করবো তার পূর্ণাঙ্গ গাইড নিচে তুলে ধরা হলো।

এসইও করার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

ওয়েবসাইট যে কোনো নিশের উপর হোকনা কেন, এসইও টার্ম এর মাধ্যমেই সেই ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে রেংক পায়।

এসইও টার্ম মূলত সার্চ ইঞ্জিনের রেংকিং ফ্যাক্টর ধারণার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। কেউ যদি তার ওয়েবসাইটকে প্রোপারলি এসইও করতে পারে, তবে তার ওয়েবসাইট নিশ্চিত রেংক করবে।

একটি ওয়েবসাইটকে পূর্ণাঙ্গ এসইও করার জন্যে এসইওকে ৩টি ভাগে ভাগ করা যায়।

  • অনপেজ এসইও
  • অফ পেজ এসইও
  • টেকনিক্যাল এসইও

এই ৩ টির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অনপেজ এসইও। তারপর হলো অফ পেজ এসইও। আর টেকনিক্যাল এসইও অপ পেজ এসইওরই অংশ।

অনপেজ এসইও মূলত ওয়েবসাইটের ডেশবোর্ড থেকে কন্টেন্ট তৈরিতে যে কাজগুলো পরিচালনা করা হয়। এটা ওয়েব মাস্টার ছাড়া আর কেউ করতে পারে না।

আর অফ পেজ এসইও এর বিষয়টা পুরোই উল্টো। এটি করতে ওয়েবসাইটের ডেশবোর্ডে প্রবেশ করতে হয় না, এবং অফ পেজের কাজ করার জন্য শুধু ওয়েব মাস্টারই নয়; বরং যে কেউ এই কাজ করতে পারে।

টেকনিক্যাল এসইও বলতে গুগল সার্চ কনসোল, গুগল এনালাইটিক্স, কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সহ ওয়েবসাইটের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করাকেই বুঝানো হয়।

০ টি এসইও টিপস

এসইও এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যান্য মার্কেটিং স্ট্রাটেজি গুলোর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।

এসইওর মতো এত মজার মার্কেটিং আর কিছুই হতে পারে না। আপনি একটি কাজ একবার করবেন, আর সারাজীবন এর ফল ভোগ করবেন। বিষয়টা খুবই ইন্টারেস্টিং।

চলুন আমরা প্রাক্টিক্যালি এসইও করার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইনটি বুঝার চেষ্টা করি। নিচে ০ টি এসইও টিপস তুলে ধরেছি, যেগুলো আপনাকে তুমুলভাবে হেল্প করবে ইনশাআল্লাহ।

, হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট তৈরি করা

এসইওতে ভালো করতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট।

আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট কোয়ালিটি যদি ভালো নাহয় তবে কোনো ভাবেই ভিজিটর ধরে রাখতে পারবেন না।

আর এটা আপনার সফলতা অর্জনে সবচেয়ে বড় বাঁধা।

তবে আমরা অনেকেই বুঝি না যে, হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট কি বা কাকে বলে।

হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট এর মানে হলো, আপনি একটি আর্টিকেল তৈরি করার সময় প্রয়োজনীয় যথাপোযুক্ত সকল ইনফরমেশন আর্টিকেলে দিয়ে দেবেন এবং আর্টিকেলটি দৃষ্টিনান্দন করে গুছাবেন, যেনো আর্টিকেলটি দর্শকের দৃষ্টিকে আকর্ষণ করতে পারে।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, আর্টিকেলে যা কিছু ব্যবহার করা হবে তার প্রতিটি বিষয়ই যেনো দর্শকের কাঙ্খিত উদ্দেশ্য পূরণে কার্যকর হয়। তবেই এটা হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট।

মনে করুন, আপনার আর্টিকেলের বিষয় হলো ’গ্রাফিক্স ডিজাইন’। এখন আর্টিকেলটির মাঝখানে যদি আপনি ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম নিয়ে কথা বলেন, তবে আপনার পাঠকগণ আর্টিকেলের মূল উদ্দেশ্য বুঝতে পারবে না।

আরো পড়ুনঃ   বাংলা ও ইংরেজিতে ইমেইল লেখার নিয়ম

তবে হ্যাঁ, পাঠকদের সুবিধার্থে আর্টিকেলটি ইনফরমেটিভ করার প্রয়োজনে যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাঝে ট্রেনের টিকিট কাটার বিষয়টি ন্যাচারালি চলে আসে, তবে অবশ্যই হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট তৈরিতে উক্ত ইনফরমেশন দেওয়ার গুরুত্ব রয়েছে।

গুগল সার্চ ইঞ্জিন মূলত এমনটাই চায়, যেটা ব্যবহারকারীদের সত্যিই কাজে লাগে। আর এটা এসইওর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টার্ম।

০২, কিওয়ার্ড রিসার্চ করা

এসইওর উদ্দেশ্য হলো একটি ওয়েবসাইটে সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভিজিটর নিয়ে আসা। প্রশ্ন জানতে পারে, কিওয়ার্ড রিসার্চ এর সাথে এসইও বা সার্চ ইঞ্জিনের সম্পর্ক কী?

ন্যাচারালি চিন্তা করি তবে এই বিষয়টা সহজেই বুঝতে পারবো। আমরা সাধারণত কোনো কিছু জানার জন্য গুগলে বিভিন্ন শব্দ লিখে সার্চ করি, আর এরই ভিত্তিতে গুগল আমাদের সামনে ফলাফল প্রদর্শন করে।

গুগলে যেই শব্দগুলো লিখে সার্চ করা হয় তাকেই মূলত কিওয়ার্ড বলে।

মনে করুন, আপনি গুগলে সার্চ করলেন “iphone 13 pro max price in bangladesh” এই কওয়ার্ডটি লিখে। গুগল আপনার কিওয়ার্ডের ভিত্তিতে এমন রেজাল্ট প্রদর্শণ করবে, যেই রেজাল্টের কন্টেন্ট গুলোতে iphone 13 pro max নিয়ে কথা বলা হয়েছে।

আপনি যখন কোনো আর্টিকেল তৈরি করেন, তখন নিশ্চই আর্টিকেলের একটি বিষয় থাকে। কিওয়ার্ড রিসার্চের উদ্দেশ্য হলো মানুষ গুগলে কি কি শব্দ লিখে সার্চ করে এবং প্রতি মাসে এই একই শব্দ দিয়ে কতবার সার্চ হয় তা সম্পর্কে জানা।

আপনি যদি কিওয়ার্ড রিসার্চ করে আর্টিকেল লিখতে পারেন, তবে আপনার আর্টিকেল অনেক বেশী এসইও ফ্রেন্ডলি হবে। এটা এসইওতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পানল করে।

০৩, সিম্পল থিম ব্যবহার করা

আপনি যে কোনো ধরণের ওয়েবসাইট তৈরি করেননা কেন, ওয়েবসাইটটিতে সিম্পল ডিজাইনের থিম ব্যবহার করা উচিত।

কারণ, ভিজিটরেরা আপনার সাইটে প্রবেশ করার সময় প্রথমেই সাইটের ডিজাইনের দিকে লক্ষ্য করে।

সাইটের ডিজাইন যদি এলোমেলো হয়, তবে আপনার কন্টেন্ট কোয়ালিটি ভালো হলেও তা ভিজিটরগণ উপভোগ করতে চাইবে না।

আপনার কথাই ভাবুন, আপনি যে আমাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছেন, এখন যদি দেখেন যে আমাদের ওয়েবসাইটের ডিজাইন সম্পূর্ণ এলোমলো। তখন নিশ্চই আপনি রাগ হবেন!

অন্যদের ক্ষেত্রেও তাই হয়। আবার ডিজাইন যদি কঠিন হয়, তবুও সমস্যা। বড় বড় ওয়েবসাইটের ডিজাইনের দিকে লক্ষ্য করলে দেখবেন যে, প্রায় সবাই সিম্পল ডিজাইনের থিম ব্যবহার করছে।

সিম্পল ডিজাইনের থিম ওয়েবসাইটের স্পিড বাড়াতেও কাজ করে।

অন্যদিকে থিমের জটিলতার কারণে ওয়েবসাইটের স্পিড কয়েকগুণ কমে যায়। এতে করে ভিজিটরগণ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেই বেরিয়ে যায়। ফলে ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট বেড়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে।

মনে রাখতে হবে, ওয়েবসাইটের অধিক বাউন্স রেট এসইওতে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। গুগল র‌্যাংকিং ফ্যাক্টর গুলোতে ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট এবং স্পিড অন্তর্ভূক্ত।

০৪, ওয়েবসাইট স্পিড অপটিমাইজ করা

ওয়েবসাইটের স্পিডের উপরও গুগলের একটি র‌্যাংকিং ফ্যাক্টর রয়েছে। এসইও টার্ম এর মধ্যেও এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়।

ভিজিটর যখন সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্ট পেজ থেকে আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে চায়, তখন আপনার ওয়েবসাইটের স্পিডের বিষয়টা ভিজিটরগণ লক্ষ্য করে।

কোনো ভিজিটরই চাইবে না যে, ২ মিনিট সময় ধরে আপনার ওয়েবসাইটের পেজ লোড হোক। কারণ, সময়ের মূল্য অনকে বেশী।

ভিজিটরের কাঙ্খিত কিওয়ার্ডের উপর গুগলে হাজার হাজার রেজাল্ট আছে। আপনার ওয়েবসাইটের লোডিং টাইম বেশী হওয়ার কারণে ভিজিটরগণ নিশ্চই গুগলের দেওয়া রেজাল্টের অন্য পেজ গুলোতে প্রবেশ করবে। এতে আপনি অগণিত ভিজিটর হারাবেন।

এই বিষয়টা গুগল রিয়েলটাইম কাউন্ট করে। ফলে আপনার ওয়েবসাইটের পেজকে গুগলের প্রথম রেজাল্ট পেজ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।

আরো পড়ুনঃ   মোবাইলে বাংলা কিবোর্ড ডাউনলোড ও A-Z সেটিং প্রক্রিয়া

আপনার ওয়েবসাইট যদি ওয়ার্ডপ্রেস (CMS) প্লাটফর্ম থেকে তৈরি করা হয়, তবে ওয়েবসাইটের স্পিড অপটিমাইজেশনের জন্য বিভিন্ন প্লাগইন ব্যবহার করতে পারেন।

০৫, কোয়ালিটি হোস্টিং ব্যবহার করা

ওয়েবসাইটের জন্য কোয়ালিটি হোস্টিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

হোস্টিং যত ভালো হবে আপনার ওয়েবসাইটের স্পিড পারফর্মেন্স ততই ভালো হবে।

তাছাড়া, কোয়ালিটি হোস্টিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফিচার থাকে, যা সাধারণত কম দামী হোস্টিং গুলোতে থাকে না।

কোয়ালিটি হোস্টিংয়ে এসএসএল (SSL) এবং ০০% আপটাইম পাওয়া যায়। ওয়েবসাইটের স্পিডও বেশ ভালো থাকে।

তাছাড়া, এই ধরণের হোস্টিংয়ে আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ, সিকিউরিটি এবং এসইওর অনেক ফিচার বিদ্যমান থাকে।

অন্যদিকে কমদামী হোস্টিং গুলোর সবচেয়ে বড় প্রবলেম হলো আপটাইম এবং ওয়েবসাইট সিকিউরিটি

আমি-আপনি অল্প দামে যেই হোস্টিং গুলো ক্রয় করি, তার বেশীরভাগ হোস্টিংয়েরই সি-প্যানেল ক্র্যাক থাকে, এটা সিকিউরিটির জন্য বেশ বিপদজনক।

তাছাড়া, এই ধরণের হোস্টিং বেশীরভাগ সময় ডাউনটাইমে থাকে, SSL ঠিক মতো কাজ করে না, ব্যান্ডউইথ কম থাকে, ওয়েবসাইটের কাঙ্খিত স্পিড পাওয়া যায় না।

এগুলো এসইওতে বেশ খারাপ প্রভাব ফেলে। এই ধরণের হোস্টিং দিয়ে ওয়েবসাইট রেংক করানো খুবই কঠিন।

০৬, Cloudflare CDN ব্যবহার করা

CDN এর পূর্ণরূপ হলো content delivery network.

এটি ভৌগলিকভাবে আন্তঃসংযুক্ত সার্ভারগুলির একটি গ্রুপ। ক্লাউডফ্লেয়ার তাদের মধ্যে একটি।

তারা মূলত কন্টেন্ট ডেলিভারির গতি বাড়ানোর জন্য ব্যবহারকারীর নিকটতম সার্ভার থেকে ক্যাশ করা কন্টেন্ট সামগ্রী সরবরাহ করে।

Cloudflare অনেক বড় একটি কোম্পানি। তাদের বিভিন্ন দেশে নিজস্ব সার্ভার রয়েছে।

আপনি যদি তাদের CDN ব্যবহার করেন, তবে আপনার ওয়েরসাইটের স্পিড অনেক বেড়ে যাবে। তাছাড়া, তারা আপনার ওয়েবসাইটকে আলাদা ভাবে প্রোটেক্ট করবে।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো Cloudflare CDN সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই আপনার ওয়েবসাইটে ব্যবহার করতে পারবেন এবং এটি শতভাগ এসইও ফ্রেন্ডলি।

আপনি ক্লাউডফ্লেয়ার ব্যবহারের আগে এবং পরের বিষয়টা যদি লক্ষ্য করেন, তবে দেখতে পাবেন CDN ব্যবহারের পর আপনার ওয়েবসাইট এসইওতে দারুণ ভাবে পারফর্ম করছে।

০৭, যথাযথ অন পেজ এসইও করা

অনপেজ এসইও হলো ’এসইওর মূল প্রাণ’। আপনার কন্টন্টে কোয়ালিটি বৃদ্ধির পাশাপাশি কন্টেন্টকে অবশ্যই এসইও ফ্রেন্ডলি করতে হবে।

কন্টেন্ট তৈরিতে এসইওর কিছু রিকোয়ারমেন্ট আছে, যা আপনাকে অনুসরণ করতেই হবে।

যেমন ধরুন, আর্টিকেলে হেডিং ব্যবহার করতে হবে এবং হেডিংয়ে টার্গেটেড কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। আর্টিকেলের ভেতরে টার্গেটেড কিওয়ার্ড এবং LSI keywords ব্যবহার করতে হবে।

আর্টিকেলে প্রয়োজনীয় ছবি /ইমেজ এবং ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করতে হবে।

এঙ্কর টেক্সট ব্যবহার করে উপযুক্ত ইন্টারনাল লিংকিং ও এক্সটারনাল লিংকিং করতে হবে।

০৮, কম্পিটিটর খুঁজে বের করা

এসইওতে দ্রুত ফলাফল পাওয়ার জন্যে প্রথমেই আপনাকে আপনার কম্পিটিটর খুঁজে বের করতে হবে।

অর্থাৎ, আপনার ওয়েবসাইটের কাঙ্খিত নিশের উপর আর কারা কারা ইন্টারনেটে রয়েছে।

কম্পিটিটর খুঁজে বের করার মানে হলো আপনি নতুন হিসেবে অন্যকে অনুসরণ করার একটি চমৎকার পদ্ধতি।

অনেকেই মনে করেন, কম্পিটিটর মানেই তার বিপক্ষের কোনো লোক। তবে এসইওতে বিষয়টা এমন নয়।

মনে করুন, আপনি কম্পিউটার প্রোগ্রামিং -এ পারদর্শী এবং এই কাজে আপনি সফল। এখন আপনি চাচ্ছেন যে, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ক্যারিয়ার এর উপর ব্লগিং এর মাধ্যমে নতুনদেরকে গাইড দেওয়ার জন্যে।

এই মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে নতুন একটি ব্লগ সাইট খুললেন এবং ব্লগিং শুরু করলেন। এখন আপনার কম্পিউটার প্রোগ্রামিং স্কিল ভালো বলেই যে আপনি নতুন অবস্থায় ব্লগিংয়েও ভালো করবেন বিষয়টা মোটেও এমন নয়।

যারা অনেক আগে থেকেই কম্পিউটার প্রোগ্রামিং স্কিলের উপর ব্লগিং করে আসছে তাদেরকে অনুরসরণ করে তাদের থেকে কিভাবে আরও ভালো মানে কন্টেন্ট তৈরি করা যায়, এটার জন্যই মূলত কম্পিটিটর খুঁজে বের করার প্রয়োজন হয়।

আরো পড়ুনঃ   বাংলা ও ইংরেজিতে ইমেইল লেখার নিয়ম

আপনার কম্পিটিরেরা কিভাবে আর্টিকেল লিখে, আর্টিকেলে কী ধরণের ছবি / ইমেজ ব্যবহার করে, কেমন ইনফরমেশন প্রোভাইড করে তা জানুন। তবে আপনার কন্টেন্ট অনেক চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন।

প্রত্যেক সকল ব্লগাররাই এই কাজে বেশ আন্তরিক। এসইও টিপসগুলোতে এটি বেশ কার্যকর।

০৯, গেস্ট ব্লগিং করা

গেষ্ট ব্লগিং এর মানে হলো আপনি অন্য ওয়েবসাইটে নিজের লেখা প্রকাশ করবেন এবং সেই ওয়েবসাইট থেকে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য লিংক নিয়ে আসবেন।

অফপেজ এসইওতে গেস্ট ব্লগিং এর স্থান সবার উপরে। তবে গেষ্ট ব্লগিং করার ক্ষেত্রে আপনাকে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

হাই কোয়ালিটি এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট দিয়ে গেস্ট ব্লগিং করুন। আপনার ওয়েবসাইটের নিশের সাথে মিল আছে এমন সাইটে গেষ্ট ব্লগিং করুন।

তাছাড়া, হাই DA, DA আছে এমন সাইটকেই কেবল গেস্ট ব্লগিং এর জন্য সিলেক্ট করুন।

মনে করুন, আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি কন্টেন্ট মার্কেটিং করেন, যেখানে আয়ের সোর্স হিসেবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংকে বেছে নিয়েছেন। পাশাপাশি গুগল এডসেন্স এবং বিভিন্ন প্রোডাক্ট রিভিউ ও স্পন্সরের মাধ্যমে আয় করা হবে।

আপনি গেষ্ট পোস্টের জন্য এমন সাইটই নির্বাচন করেন, যেই সাইট গুলো আপনার মতই কন্টেন্ট মার্কেটিং এর জন্য তৈরি করা হয়েছে।

আপনি যদি এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে গেষ্ট ব্লগিং করতে পারেন, তবে অতি দ্রুতই আপনার সাইট এসইওতে বেশ ভালো ফলাফল প্রদর্শন করবে।

০, ব্যাকলিংক তৈরি করা

নতুন অবস্থায় কেউ কাউকে ব্যাকলিংক দিতে চায় না। তাই ওয়েবসাইটকে এগিয়ে নিতে নিজেকেই ব্যাকলিংক করার দায়িত্ব নিতে হয়।

ব্যাকলিংক এর মানে হলো অন্য ওয়েবসাইটে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক যুক্ত করা। এতে ডোমেইন অথরিটি বৃদ্ধির পাশাপাশি ওয়েসাইট রেংক করে।

তবে ব্যাকলিংক করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়। কারণ, নিজের ওয়েবসাইটের জন্য নিজেই ব্যাকলিংক করাকে গুগল কোনো ভাবেই পছন্দ করে না। তাই সতর্কতার সাথে ব্যাকলিংক করতে হবে।

লো DA, PA সাইট থেকেও ব্যাকলিংক করা যাবে না। আবার সেই ওয়েবসাইটের স্প্যাম স্কোর বেশী সেই ওয়েবসাইট থেকে লিংক কখনই নেওয়া উচিত না।

ব্যাকলিংক করার জন্য গেস্ট পোস্টিং সবচেয়ে কার্যকর। তারপর আপনি কিছু প্রোফাইল ব্যাকলিংক করবেন, উইকিপিডিয়া থেকে ব্যাকলিংক নেবেন।

তাছাড়া আরও রয়েছে প্রেস রিলিজ, সোশ্যাল বুক মার্কিং, ডিরেক্টরি সাবমিশন, ওয়েব 2.O,  ফোরাম পোস্টিং, পিডিএফ সাবমিশন ইত্যাদি। আপনার ওয়েবসাইটের ব্যাকলিংকে এগুলো রাখতে পারেন।

নিজে যেহেতু এগুলো করবেন, তাই অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়। আর একদিন ব্যাকলিংক করেই থেমে যাবেন না। নিয়মিত করবেন। তাহলে আস্তে আস্তে দেখবেন যে, ইনশাআল্লাহ আপনার এসইও সফল হতে শুরু করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথাঃ

প্রিয় পাঠক, আমার পার্সোনাল অভিজ্ঞতা থেকে এসইও করার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি আর্টিকেলটিতে যেই বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছি, তা যদি আপনার যথাযথ ফলো করতে পারেন, তবে আশাকরি যে কোনো ওয়েবসাইটের এসইও যাত্রাকে সহজেই সফল করতে পারবেন।

মনে রাখবেন, এসইও মূল প্রাণ হলো অনপেজ এসইও। আপনার ওয়েবসাইটের অনপেজ এসইও যত ভালো হবে, গুগলের চোখে আপনার কন্টেন্ট ততই কোয়ালিটি সম্পন্ন।

তারপর ওয়েবসাইটের ভ্যালু বাড়াতে অবশ্যই অফ পেজ এসইও করবেন। টেকনিক্যাল এসইওর মূল উদ্দেশ্য হলো আপনার ওয়েবসাইটের সমস্যা গুলোকে সমাধান করা।

অবশ্যই এই বিষয় গুলোর দিকে লক্ষ্য রাখবেন। তবে আশা করা যায়, আপনার এসইওর পরিশ্রম খুব দ্রুতই আপনাকে সফলতা অর্জনে সহায়তা করবে ইনশাআল্লাহ।

NAZIRUL ISLAM NAKIB

যত জ্ঞান-ধন করেছি অর্জন জীবনের প্রয়োজনে,
তার সবটুকুই বিলাতে চাই সৃষ্টির কল্যাণে।